সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বাংলাদেশের টেলিভিশন ও ডিজিটাল কনটেন্ট জগতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন। তার প্রজন্মের যেসব দর্শক একসময় নিয়মিত তার নাটক দেখেছেন, তারা আজও সমান আগ্রহ নিয়ে তার নতুন নাটক, ওয়েব ফিল্ম কিংবা ওয়েব সিরিজের অপেক্ষায় থাকেন। নিজস্ব মেধা, পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতায় অপূর্ব ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছেন, ধরে রেখেছেন নিজের শক্ত অবস্থান।
সহশিল্পীদের কাছে অপূর্ব যেমন ভীষণ প্রিয় ও আস্থাভাজন, তেমনি দর্শকের কাছেও তিনি ভালোবাসার মানুষ। সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সকল শিল্পীর কাছেই অপূর্ব এক ধরনের স্বস্তির নাম। তার সঙ্গে নাটক কিংবা ওয়েব প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন অনেক অভিনয়শিল্পী। সহশিল্পীদের প্রতি তার সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সবসময়ই প্রশংসিত। অভিনয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই জনপ্রিয় অভিনেতা দেখতে দেখতে পার করলেন অভিনয় জীবনের দুই দশক।
২০০৬ সালে গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় ‘বৈবাহিক’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অপূর্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরও আগে, ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুকস’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাতি অর্জন করেন। এরপর অমিতাভ রেজার পরিচালনায় প্রথম বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন। নাটকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ও দর্শকপ্রিয় কাজ মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত ‘বড় ছেলে’। এই নাটকে তার অভিনয় দেশে-বিদেশে অভাবনীয় সাড়া ফেলে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন মেহজাবীন চৌধুরী।
এর আগে ও পরে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—‘কথা ছিলো অন্যরকম’, ‘রমিজের আয়না’, ‘অ্যাক্স ফ্যাক্টর’, ‘ব্যাকডেটেড’, ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’, ‘ব্যাচ টুয়েন্টি সেভেন’, ‘য়ের বয়স বারো’, ‘উত্তম কুমার সুচিত্রা সেন’, ‘ব্ল্যাক কফি’, ‘সবার উপরে মা’, ‘লেক ড্রাইভ লেন’, ‘জলে তার ছায়া’, ‘বিনি সুতোর টান’, ‘পাশের বাসার ছেলেটা’, ‘উড়ছি তোমার প্রেমে’, ‘নতুন করে শুরু’, ‘স্বপ্ন দেখার দিনগুলো’, ‘সে ভালোবেসেছিলো’, ‘ইট কাঠের খাঁচা’, ‘বাক্সবদল’, ‘মন দরিয়া’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘মন দুয়ারী’সহ আরও বহু নাটক।
চলচ্চিত্রে অপূর্বর প্রথম কাজ আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’। এরপর তিনি অভিনয় করেন আলোচিত ওয়েব ফিল্ম ‘মায়া শালিকত’ ও ‘যদি কিন্তু তবুও’-তে। পাশাপাশি ‘বুকের মধ্যে আগুন’ ও ‘গোলাম মামুন’ ওয়েব সিরিজে তার অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ব্যক্তিজীবনে অপূর্ব এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার বাবা কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন এবং বর্তমানে তিনি মায়ের দোয়ায় আশীর্বাদপ্রাপ্ত। দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহুবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এই অভিনেতা।
অপূর্ব বলেন, “মহান আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা, তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন এবং ভালো রেখেছেন। আমার পিতা-মাতার প্রতিও কৃতজ্ঞতা, তারা আমাকে একটি সুন্দর জীবন দিয়েছেন। বাংলা ভাষাভাষী সব দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা দীর্ঘ সময় ধরে আমার কাজ উপভোগ করছেন এবং আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমার সকল সহশিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক, নাট্যকার, সিনেমাটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট ও শিল্প নির্দেশকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। গণমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞ, কারণ সুখে-দুঃখে তাদের পাশে পেয়েছি। সামনে আরও ভালো কাজ উপহার দিতে চাই। সবার দোয়া কামনা করছি।”