সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। দেশটির প্রবীণ ও কিংবদন্তি অভিনেতা আন সাং-কি আর বেঁচে নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সিউলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘দ্য ডিভাইন ফিউরি’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেতা। দীর্ঘ প্রায় সাত দশকের ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন ১৭০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে।
দ্য কোরিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন সাং-কি দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গত সপ্তাহে খাবার গ্রহণের সময় শ্বাসরোধজনিত জটিলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ১৯৫৭ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা আন সাং-কি তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কোনো বিতর্কে জড়াননি। পেশাদারিত্ব, শালীনতা ও মানবিক আচরণের জন্য তিনি সহকর্মী ও দর্শকদের কাছে ছিলেন গভীর শ্রদ্ধার পাত্র।
তার মৃত্যুর পর আর্টিস্ট কোম্পানির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন সাং-কি ছিলেন দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান একজন শিল্পী, যিনি কোরিয়ান জনপ্রিয় সংস্কৃতির ইতিহাসে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার অভিনয়ে বরাবরই মানুষের জীবন, অনুভূতি ও বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা গেছে। যুগে যুগে তার কাজ দর্শকদের আবেগ ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে। এ কারণেই তাকে ‘জাতীয় অভিনেতা’ হিসেবে সম্মানিত করা হতো। শুটিং সেট ও সহশিল্পীদের প্রতি তার শ্রদ্ধাশীল আচরণ ছিল অনুকরণীয়।
শেষকৃত্যের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। শিন ইয়ং-গ্যুন আর্টস অ্যান্ড কালচার ফাউন্ডেশন এবং কোরিয়ান ফিল্ম অ্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে তাকে ঘিরে আয়োজন করা হবে একটি ফিল্ম ফিউনারেল। অভিনেতা লি জং-জে ও জং উ-সাং তার শেষ যাত্রায় অংশ নেবেন।
সিউল সেন্ট মেরিস হাসপাতালের ফিউনারেল হোমের ৩১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে।
মৃত্যুকালে আন সাং-কি রেখে গেছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। কিংবদন্তি এই অভিনেতার প্রয়াণে শোকাহত দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ বিশ্বজুড়ে থাকা অসংখ্য অনুরাগী।