সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন
বাবার কবরে ছেলে, সংগীতজগত হারাল এক নিরব যোদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক
নির্বাক করে দিয়ে চিরবিদায় নিলেন ওইনড ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এ কে রাতুল। তাকে সমাহিত করা হয়েছে তার প্রয়াত বাবা, ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি খলনায়ক জসীমের কবরেই। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ খবর নিশ্চিত করেছেন অর্থহীন ব্যান্ডের ম্যানেজার এহসানুল হক টিটু। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, রাতুল দীর্ঘদিন ধরে অর্থহীন ব্যান্ডের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার শেষযাত্রায় অংশ নেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও সংগীত অঙ্গনের বহু সহকর্মী।
রোববার (২৭ জুলাই) সকালে জিমে ওয়ার্কআউট করার সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাতুল। দ্রুত তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে স্থানান্তর করা হয় লুবানা জেনারেল হাসপাতালে। তবে শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৯৮ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন জনপ্রিয় খলনায়ক জসীম। তার তিন পুত্রের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন রাতুল—সানী ও রাহুল তার অন্য দুই ভাই। বাবার মতোই নিজ ক্ষেত্রেও অনন্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে ‘ওইনড’ ব্যান্ডের মাধ্যমে রাতুলের সংগীতজগতে আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’ মুক্তি পায় ২০১৪ সালে, এরপর ‘টু’ নামে দ্বিতীয় অ্যালবাম আসে ২০১৭ সালে। তারপর থেকেই ব্যান্ডটি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
ভোকাল আর বেজ গিটার বাজানোর পাশাপাশি রাতুল ছিলেন একজন দক্ষ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও সংগীত প্রযোজক। অর্থহীনের ‘ফিনিক্সের ডায়েরি’ অ্যালবামের অসাধারণ সাউন্ড ডিজাইন তারই সৃষ্টি। তার হাত ধরেই অনেক ব্যান্ডের অ্যালবাম পেয়েছে নতুন মাত্রা।
রাতুলের হঠাৎ মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহশিল্পী, ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীরা তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—ভালোবাসা আর স্মৃতিতে ভরা বিদায়ের গান হয়ে উঠেছে রাতুলের নাম।