সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
“ভাঙনের আগে অস্ট্রেলিয়ায় দেখা, কনসার্টে কন্যা—তারপরই সম্পর্ক ছিন্ন”
অনলাইন ডেস্ক
হলিউডের গ্ল্যামার জগতে যতই প্রেমের গল্প শুরু হোক রূপকথার মতো, শেষটা যেন বারবার ফিরে আসে এক করুণ বাস্তবতায়। কেটি পেরি ও অরল্যান্ডো ব্লুম—এই তারকা জুটির সম্পর্ক একসময় ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নেই পড়েছে ছেদ। মার্কিন গণমাধ্যম ইউএস উইকলি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, বহু জল্পনার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটেছে এই জনপ্রিয় দম্পতির।
যদিও এখনো পর্যন্ত কেটি বা অরল্যান্ডোর পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি আসেনি, তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে খবরটি নিশ্চিত হয়েছে। সূত্র বলছে, “কেটি ও অরল্যান্ডো এখন আলাদা থাকছেন। তবে তাঁরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।” এ সম্পর্কের ভাঙন শুরু হয়েছিল বহু আগেই, শুধুমাত্র প্রকাশ্যে আসা ছিল সময়ের ব্যাপার।
সম্প্রতি কেটি পেরি তাঁর বিশ্বব্যাপী মিউজিক ট্যুরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সূত্রের মতে, কেটির ট্যুর ও কাজের ব্যস্ততা তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব তৈরি করে। অন্যদিকে, অরল্যান্ডো ব্লুমও তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেছিলেন। এমন আলাদা জীবনযাপনই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়।
তবে মজার ব্যাপার হলো, এই বিচ্ছেদের খবরটি আসে এমন এক সময়, যখন মাত্র দুদিন আগে কেটির অস্ট্রেলিয়ার কনসার্টে উপস্থিত হন অরল্যান্ডো। শুধু তাই নয়, তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ডেইজি ডাভ ব্লুম-ও উপস্থিত ছিল সেই কনসার্টে। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ছবিতে ধরা পড়ে এই মধুর মুহূর্ত। যদিও তখনই বোঝা যাচ্ছিল, দৃশ্যের পেছনে চলছে ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আলোচনা।
দ্য সান জানায়, অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়েই তাঁরা তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছান। সেখানেই সম্পর্কের “শেষ পাতা” লেখা হয়।
এই জুটির প্রেম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে গোল্ডেন গ্লোবসের এক পার্টিতে। প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায় দ্রুত। ২০১৭ সালে একবার বিচ্ছেদ হলেও আবার তাঁরা ফিরে আসেন পরস্পরের জীবনে। ২০১৯ সালে তাঁরা বাগ্দান সম্পন্ন করেন, আর ২০২০ সালে তাঁদের কন্যা ডেইজির জন্ম হয়। ইউনিসেফের ইনস্টাগ্রাম পেজে কন্যা জন্মের ঘোষণা করে তাঁরা তখন দুনিয়াজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
তবে সম্পর্কের ভাঙনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পিপলডটকম জানিয়েছে, কেটি পেরির সর্বশেষ অ্যালবামের বাণিজ্যিক ব্যর্থতা এবং কনসার্টে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়া তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই সময়ে অরল্যান্ডোর সঙ্গে চলতে থাকা দূরত্ব ও মানসিক টানাপোড়েন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে আরো জোরালো করে তোলে।
সূত্র আরও বলছে, “এই সম্পর্কটা আর ঠিকঠাক চলছিল না। দুজনেই আলাদা জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কেটির পক্ষে বিষয়টি সামলানো বেশ কঠিন ছিল, তবে এখন সে নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছে।”
এই বিচ্ছেদ শুধুই এক দম্পতির নয়, ভেঙে যাওয়া হলো আরও এক রূপকথার কাহিনি, যেটা ভক্তদের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে। কেটি-অরল্যান্ডোর মিষ্টি মুহূর্তের স্মৃতি থেকে শুরু করে তাঁদের কন্যা ডেইজির জন্ম পর্যন্ত—সবই এখন অতীত।
ভবিষ্যতে তাঁরা কীভাবে এই নতুন অধ্যায় শুরু করবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ভক্তদের জন্য এটা নিঃসন্দেহে এক মন খারাপের গল্প।