সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
অন্যায় ও অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এস আলম গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করেছে। গত জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে চিনির উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা ছিল।
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা ছয়টি রাষ্ট্রীয় চিনিকলের ভবিষ্যৎ এখনো অন্ধকারে। একইসাথে বাজারে চিনির মূল্যও ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে হওয়া চুক্তির অনিয়মের কারণে তা বাতিল করেছে সরকার। মূলত চুক্তিটি করা হয়েছিল চিনির উৎপাদন বাড়াতে এবং চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা নির্ধারণের জন্য।
২০১৯ সালের চুক্তি অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব চিনিকল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই বিনিয়োগ এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
থাইল্যান্ডের সুটেক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, আরব আমিরাতের শারকারা ইন্টারন্যাশনাল, এবং জাপানের সজিটজ মেশিনারি করপোরেশনের সঙ্গে সরকারের তেমন কার্যকর যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার কবির।
তিনি জানান, “যদি বিনিয়োগকারীরা সত্যিই আগ্রহী হন, তবে তাদের এখনই সরকারের কাছে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।”
২০১৯ সালে চিনি ও খাদ্য করপোরেশন এসব বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আখ, মদ, ও বিয়ার শিল্প স্থাপন করা।
২০২০ সালে থাই সুটেক কোম্পানি চিনিকলগুলোর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব করে, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ সরকার জিটুজি চুক্তির আওতায় আপগ্রেড পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অর্থায়ন করবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন ও থাইল্যান্ডের এক্সিম ব্যাংক।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে পাবনা, শ্যামপুর, পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, এবং কুষ্টিয়া চিনিকল বন্ধ করে দেয় সরকার। চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের সূত্র মতে, থাই ও জাপানি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির কারণে তা থমকে যায়।
এস আলমের সঙ্গে করা চুক্তি অনিয়মের অভিযোগে বাতিল হয়েছে বলে জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। সচিব আনোয়ার কবির বলেন, “সুটেকের প্রস্তাবটি খুবই আকর্ষণীয়, যা বন্ধ থাকা চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে পারে।”
বিগত সরকার এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কাজ করার পক্ষে ছিল, তবে বর্তমান সরকার চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সার্বভৌম গ্যারান্টির বিষয়টি আগের সরকার চূড়ান্ত না করায় বর্তমান সরকার তা নিশ্চিত করতে পারছে না।”
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, তারা বিনিয়োগে আগ্রহী এবং সরকার আগ্রহ দেখালে প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করা যেতে পারে। তিনি বলেন, নতুন চুক্তির দরকার নেই, চিনি ও খাদ্য করপোরেশনের একটি চিঠিই যথেষ্ট হবে।
এমদাদ হোসেন আরও জানান, বিনিয়োগকারীরা উচ্চফলনশীল আখ চাষ করবেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যকরী করবেন। এই কলগুলো থেকে উপজাত হিসেবে উচ্চমানের অ্যালকোহল উৎপাদন করা হবে, যা ওষুধ ও পারফিউম তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।
এখানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ২৮ মাস সময় লাগবে।
সুটেকের মূল্যায়ন অনুসারে, পরিশোধিত চিনির মূল্য পড়বে ৬০ টাকা কেজি, যা বর্তমানে বাজারে ১৪০ টাকা কেজি।