মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। সবচেয়ে বেশি ভুগছে ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহের মানুষ। জ্বালানিস্বল্পতায় ৩ হাজার ৮৪৬ আর রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩ হাজার ৮৩৫ মেগাওয়াট ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান সক্ষমতা ২৭ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জ্বালানিস্বল্পতায় ৩ হাজার ৮৪৬ আর রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩ হাজার ৮৩৫ মেগাওয়াট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কয়লার অভাবে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুরোদমে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে ৮০০ মেগাওয়াট।
পিডিবি সূত্রে আরও বলছে, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুরো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। বাগেরহাটের রামপাল কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি কারিগরি কারণে বন্ধ ছিল। গতকাল থেকে দুটিই চালু হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে, তাই অর্ধেক সরবরাহ হচ্ছে।
বকেয়া জটিলতায় ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট সরবরাহ কমেছে। ৮০ কোটি ডলারের পাওনা আদানির। এর মধ্যে ৫০ কোটি ডলার পরিশোধের সময় শেষ হয়ে গেছে আরও আগে। সরবরাহ কমার পর গত সোম ও মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গতকাল আরও ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা থাকলেও তা পায়নি আদানি। দিনে প্রায় ৩০ লাখ ডলার বিদ্যুৎ বিল পাওনা হয় তাদের।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন- বড়পুকুরিয়ায় কারিগরি সমস্যা হয়েছে, যা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। রামপাল পুনরায় চালু হয়েছে, আদানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থার উন্নতি হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। এ দুটি সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঢাকায় আগের দিনের মতো লোডশেডিং ছিল গতকাল। গতকাল দিনের বেলাতেও ডেসকো এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াট ও ডিপিডিসি এলাকায় ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এতে করে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা আর কোথাও দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে।
তবে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে দেশের অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) তথ্য বলছে, গতকাল দিনের বেলায় তিনটার দিকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করেছে তারা। গড়ে ২৫ শতাংশ সরবরাহ কম পেয়েছে আরইবি।