মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভাষণের সঙ্গে ভারত সরকারের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শ্রী রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, শেখ হাসিনার মন্তব্যগুলো তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হয়েছে এবং ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নয়।
তিনি আরও জানান, ভারতের সাউথ ব্লকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. নূরল ইসলামকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় তলব করা হয়। আলোচনার সময় ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে এবং সম্পর্কের মধ্যে ইতিবাচকতা বজায় রাখতে চায়। দুই দেশের সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বারবার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে, ভারতের উদ্বেগের জায়গা হলো বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিবৃতি, যা ভারতকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে এবং অভ্যন্তরীণ শাসনসংক্রান্ত ইস্যুতে ভারতকে দায়ী করছে।
জয়সওয়াল বলেন, “আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশ সরকারের কিছু বক্তব্য ভারতকে অযাচিতভাবে জড়াচ্ছে এবং একটি নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা চাই, বাংলাদেশ পরিবেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তপ্ত না করে পরস্পরের স্বার্থে কাজ করুক।”
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সৃষ্ট কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যদিও প্রকাশ্যে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারতকে কতটা অস্বস্তিতে ফেলেছে, সেটি স্পষ্ট না হলেও ভারতের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা এবং কৌশলগত স্বার্থের সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে, কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এ ধরনের তলব ও বিবৃতির লড়াই মূলত রাজনৈতিক ইশারাবাজি, যা দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত উত্তেজনা কতটা বেড়েছে, তার প্রকাশ মাত্র।
এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই তলবের কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ বক্তব্যে ভারত নিয়ে কোনো সংশোধিত অবস্থান দেখা যায় কি না। দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবার কৌতূহলের বিষয়।