সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে আটক থাকা ১৭৮ বিডিআর সদস্যের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন।
এর আগে, গত রোববার হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিস্ফোরক আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়ার আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ২৮৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে সংঘটিত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। হত্যা মামলায় সাজা ভোগ বা খালাসপ্রাপ্তদের অনেকের মুক্তি বিস্ফোরক মামলার কারণে আটকে রয়েছে। এই মামলার কারণে এখনও ৪৬৮ জন কারাগারে আছেন।
হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ৮৫০ জনের বিচারকাজ শেষ হয়। এতে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় খালাস পান ২৭৮ জন।
২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের রায় দেওয়া হয়। এতে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। পাশাপাশি ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় আরও ২৮৩ জন খালাস পান।
হাইকোর্টের রায়ের আগে এবং পরে মিলিয়ে ৫৪ জন আসামি মারা গেছেন। এ মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামি আপিল করেছেন এবং লিভ টু আপিল দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, হাইকোর্টে ৮৩ জন আসামির খালাস এবং সাজা হ্রাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করেছে। এসব আপিল এবং লিভ টু আপিলের শুনানি এখনও বাকি রয়েছে।
২০১০ সালে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির বিচারকাজ শুরু হয়। তবে কিছুদিন পর হত্যা মামলার সাক্ষ্য প্রদানে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই মামলার বিচার কার্যক্রম একপ্রকার স্থগিত ছিল। ফলে মামলাটি ঝুলে যায়।
ক্ষমতা বদলের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই হত্যাকাণ্ড পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। গত ১৯ ডিসেম্বর শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান।
সরকার ২৪ ডিসেম্বর আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়।