শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
নির্দেশিকা ও নীতিমালা উপেক্ষা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
গতকাল বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এ নির্দেশনা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব ও সিনিয়র সচিবদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই চিঠি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, যা সরকারকে বিব্রত করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পর আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। প্রশাসন ক্যাডার এবং অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পক্ষ অপর পক্ষকে কটাক্ষ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এর ফলে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইদানীং দেখা যাচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’-এর বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট দিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন তথ্য ও ডকুমেন্ট শেয়ার করছেন, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারকে বিব্রত করছে। এই আচরণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস রুলসের পরিপন্থি এবং তা অগ্রহণযোগ্য।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল। অনেক ক্ষেত্রে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এবং ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের এসব ব্যত্যয় রোধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে কোনো ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’-এর অধীনে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।