শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন। টিউলিপ যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য এবং বর্তমানে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সম্প্রতি তার নামও বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে জড়িত অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে যে, লন্ডনে একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি একটি ফ্ল্যাট উপহার হিসেবে পেয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ব্যবসায়ী আবদুল মোতালিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
সংবাদে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের কিংস ক্রস এলাকার কাছে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন, যা ব্যবসায়ী আবদুল মোতালিফ তাকে উপহার দিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফ্ল্যাটটির জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালে বিনামূল্যে প্রাপ্ত এই ফ্ল্যাটটি ২০০১ সালে ১ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড দিয়ে কেনা হয়েছিল। টাকার বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে এর দাম প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার সমান। যদিও ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি, তবে একই ভবনের আরেকটি ফ্ল্যাট গত আগস্টে ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে, যা প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবাসন ব্যবসায়ী আবদুল মোতালিফ দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনে বসবাস করতেন। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথি অনুসারে, তার পূর্ব ঠিকানায় বর্তমানে মজিবুল ইসলাম নামে একজন বসবাস করছেন। মজিবুলের পিতা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবদুল মোতালিফ স্বীকার করেছেন যে, তিনি কিংস ক্রসের ওই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলার বিষয়ে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে, টিউলিপ সিদ্দিক বিনামূল্যে ফ্ল্যাট পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার গুঞ্জন উঠলেও, এ ব্যাপারে তার মুখপাত্র দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
উল্লেখ্য, এই ফ্ল্যাট বিতর্ক এমন এক সময় সামনে এসেছে যখন বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ এবং টিউলিপ সিদ্দিকসহ তাদের বিরুদ্ধে ৯টি প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। গত মাস থেকেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।