শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলে দিন দিন শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এর কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
উত্তরের মতো টাঙ্গাইলেও শীতের প্রকোপ সম্প্রতি বেড়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা মেলে না, আর হিমেল হাওয়ায় মানুষের অবস্থা বিপর্যস্ত।
ঘন কুয়াশায় দিনের বেলা মহাসড়কে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের, যেমন রিকশাচালক, দিনমজুর, ঠান্ডা কারণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা, কাশি, ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং নবজাতকদের সমস্যা হচ্ছে বেশি।
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত রোগীর কারণে হাসপাতালের অবস্থা সংকটপূর্ণ। বেড না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বারান্দায় মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে এক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে নতুন রোগের শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে রোগীদের মধ্যে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বোয়ালী এলাকার আখি বলেন, ‘আমার ছেলে হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। চারদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি, কিন্তু বেড না পাওয়ায় বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। ডায়রিয়া ভালো হলেও ঠান্ডা কাশি নিয়ে চিন্তায় আছি।’
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন ঘাটাইল উপজেলার লোকের পাড়া গ্রামের মাসুদ। তিনি বলেন, ‘বেড না পেয়ে বারান্দায় পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। শীতের মধ্যে তিনদিন ধরে কষ্ট করছি। পরিবেশ খুবই নোংরা।’
বাসাইলের কাশীল এলাকার রানা মিয়া বলেন, ‘এক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অন্য রোগ হওয়ার ভয় করছি। হাসপাতালের পরিবেশ এমন যে এখানে থাকার মতো নয়। বেডও নেই। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ দীর্ঘদিন হলো তৈরি হলেও সেখানে সেবা নেই। পুরোনো হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ। শীতের মধ্যে বারান্দায় শিশুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। দ্রুত মেডিকেল কলেজে সেবা ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স নিলুফা খান বলেন, ‘অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসা দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় ১০ গুণ রোগী সেবা নিতে আসায় হাসপাতালে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। তবে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বেড সংখ্যা মাত্র ১২টি, কিন্তু বর্তমানে ৬৫ জন রোগী রয়েছে। ফলে মানসম্মত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’