সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যুত্থান নিয়ে ‘অপপ্রচার’ চলছে এবং এই প্রসঙ্গে ভারতীয় দুটি সংবাদমাধ্যমের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যদি ইসলামি উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেয়, তাহলে তা ভারতের উগ্রবাদীদের জন্য অনুকূল হয়ে উঠবে। এ অবস্থান থেকে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি ভারতের দুটি পত্রিকায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন ধরণের প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, আমাদের আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মাহফুজ আলমকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভারতের পত্রিকা ইকোনমিক টাইমস কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে হিজবুত তাহরীর সদস্য হিসেবে তুলে ধরছে। আমরা দেখলাম, আনন্দবাজার পত্রিকাতেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। একই সুরে কথা বলছেন তসলিমা নাসরিনও। এই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ইকোনমিক টাইমস গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে হিজবুত তাহরীর তৎপরতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে এই সংগঠনের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর আনন্দবাজার পত্রিকায়ও মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে একই অভিযোগের উল্লেখ করা হয়।
মাহফুজ আলম আগেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি হিজবুত তাহরীর বা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত নন। ১৪ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অপপ্রচার সেলগুলো আমাকে ইসলামি বা জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অপবাদ দিচ্ছে, বিশেষ করে হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আমি কখনো হিজবুত তাহরীর বা অন্য কোনো অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর আদর্শকে সমর্থন করি নাই। আমি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গেও কখনো যুক্ত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের আদর্শের সঙ্গে আমি একমত ছিলাম না।’

আজকের আলোচনায় উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মাহফুজ আলম যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠে আন্দোলনকে বৈশ্বিকভাবে পরিচিত করেন, তখন থেকেই এই অপপ্রচারের প্রসার বেড়েছে।
এই অপপ্রচারের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা বোঝা জরুরি বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে এক ধরনের ইসলামি উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেখানো হচ্ছে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটছে এবং এই অভ্যুত্থান তাদের মাধ্যমেই সংগঠিত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা; বরং একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। কারণ আমরা জানি, বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিলে ভারতের উগ্রবাদীদের পক্ষে তা সহায়ক হয়ে ওঠে।’
নাহিদ ইসলাম আরও আশা প্রকাশ করেন, ভারতের গণতন্ত্রকামী মানুষেরাও এই অপপ্রচার এবং ভুল তথ্যের নিন্দা জানাবেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দক্ষিণ এশিয়াকে গণতান্ত্রিক রাখতে চাই, তাহলে অবশ্যই এই ধরনের প্রোপাগান্ডা, ভুল তথ্য এবং বিকৃত বয়ানের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে।’