শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি জেনারেলের পরিচয় সামনে আসার পর থেকে চলছে উত্তপ্ত আলোচনা। এস এম ফরহাদ, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী, কবি জসীমউদ্দীন হলের বাসিন্দা ছিলেন এবং একসময় ছাত্রলীগেরও পদধারী ছিলেন।
গত রবিবার রাতে ফেসবুকে ফরহাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি আসলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা। জামায়াতে ইসলামী ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীল নেতা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সাদিক কায়েমের পরিচয় প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিক এবং ফরহাদ, দুজনেই চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
রবিবার রাতে ফরহাদের শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে পরিচয় সামনে আসার পর তাঁর পরিচিতজনেরা বিস্মিত হন। তিনি কবি জসীমউদ্দীন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এ এস এম কামরুল ইসলাম। কামরুল, যিনি চার বছর ধরে ফরহাদের সঙ্গে একই কক্ষে বাস করতেন, ফেসবুকে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘কখনো কখনো সত্যি অবাক হতে হয়।’

ফরহাদের শিবিরের পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি পরিচয়ও সামনে আসে—তিনি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২২ সালে প্রকাশিত ছাত্রলীগের কমিটিতে তাঁর নাম ছিল। এ ঘটনায় ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।
ফরহাদের ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা তানভীর হাসান সৈকত ও এস এম রাকিব সিরাজীর সঙ্গে ফরহাদের ছবিও রয়েছে। এদিকে, ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন যে তাঁদের সংগঠনের শাখার সব নেতাই প্রকাশ্যে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গোপন রাজনীতি থেকে মুক্তি চাই, যেন সবাই স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক চর্চা করতে পারে।’