শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা বলেছেন, উপযুক্ত পুনর্বাসন না করে অটোরিকশা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা চলবে না।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রিকশা চালকদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং তাদের পুনর্বাসন না করে হয়রানি বন্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কলাভবন, শ্যাডো, মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর শাহবাগ ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলের সময় জোটের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন, ‘শ্রমিক যখন না খেয়ে মরে—পুলিশ তখন লাঠি মারে’, ‘পুনর্বাসন না করে—রিকশা বন্ধ চলবে না’, ‘যেই হাত শ্রমিক মারে—সেই হাত ভেঙে দাও’ ইত্যাদি।
মিছিল শেষে জোটের নেতা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের সঞ্চালনায় জোট নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিক বলেন, অটোরিকশা শ্রমিকরা তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির জন্য আন্দোলন করছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে মানুষ তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করবে, কথা বলবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, রিকশা শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করেছে।
তিনি বলেন, লাঠিচার্জের ফলে অসংখ্য রিকশা শ্রমিক আহত হয়েছে। এই সরকার অভ্যুত্থান মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু তাদের কোন সিদ্ধান্তই জনগণের পক্ষে যাচ্ছে না। এর আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের ওপর অত্যাচার করেছে। শ্রমিকরা যখন ন্যায়সঙ্গত দাবিতে আন্দোলন করেন, তখন বলা হয় তারা আওয়ামী লীগের হয়ে আন্দোলন করছেন। আজকের সমাবেশ থেকে আমরা এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আহমেদ জুবেল বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, এই সরকার দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবে, কিন্তু আমরা বারবার শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। ঢাকা শহরে প্রায় ২০ লাখ রিকশা শ্রমিক রয়েছে, তাদের বিষয়টি কোন বিবেচনায় না নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন তার ভুক্তভোগী হয় সাধারণ জনগণ। আমরা বলতে চাই, কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রিকশা চালকদের সাথে আলোচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, রিকশা শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে তাদের বলা হয়, ‘হাইকোর্ট বলেছেন, তাই আপনাদের আইন মানতে হবে’। কিন্তু এমন কথাই তো জুলাই আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগও বলেছিল। তখন আমরা আন্দোলনকারীরা বলেছিলাম, আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে সমাধান হবে।
‘আজ আবার শিক্ষিত সমাজও বলছে, হাইকোর্টে যান। আমরা বলছি, রিকশা চালকদের হাইকোর্ট দেখিয়ে সমাধান হবে না, তাদের সাথে কথা বলেই সমাধান করতে হবে’—যোগ করেন আহমেদ জুবেল।