সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকা কলেজ থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি সায়েন্সল্যাব মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এর ফলে আশেপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন উদ্যোগ না নিয়ে শুধুমাত্র সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। আমরা এই কমিশন প্রত্যাখ্যান করেছি এবং চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।
ঢাকা কলেজের ছাত্র তুষার হোসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছে। আমরা দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। একই স্মারকলিপি কলেজগুলোর অধ্যক্ষদেরও হস্তান্তর করা হয়।
এরপর গত ২২ অক্টোবর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে। সেই দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেলে সায়েন্সল্যাবে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামসহ তিন দফা দাবি জানানো হয় এবং সেদিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটিকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবি হচ্ছে— ১. দ্রুত সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন করতে হবে।
২. কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করবে।
৩. নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কারণে কোন সেশনজট যেন তৈরি না হয় এবং যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন না হয়, ততদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে না পড়তে হয়।