শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
খুলনায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে অবস্থিত জাতীয় পার্টির অফিসে এ তাণ্ডব চলে।
এ ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এবং দোকানপাটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা একটি মিছিল নিয়ে ডাকবাংলা মোড়ে পৌঁছে। তারা ডাকবাংলা মোড় পার হয়ে জাতীয় পার্টির খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে। এরপর তারা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভাঙচুর শেষে তারা কার্যালয়ের মালামাল বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খুলনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, উত্তেজিত জনতা জাতীয় দালাল ও ফ্যাসিস্টদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। তবে এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু গণমাধ্যমকে জানান, মাগরিবের নামাজের সময় পার্টি অফিসে কেউ ছিল না। তখন ৫০-৬০ জনের একটি ছাত্র-যুবকের দল তাদের কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছোড়ে। এরপর তারা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে সাইনবোর্ড, চেয়ার-টেবিল, ফ্যান, টিভি ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ফাইল ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। এ ছাড়া তারা কার্যালয়ের কয়েকটি চেয়ার, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড রাস্তায় নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
খুলনা থানার ওসি শেখ মনিরুল গিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় ৬টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হঠাৎ মিছিল নিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং কার্যালয়ের ভেতর থেকে দুটি প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে বাইরে অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি, তবে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।