সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
প্রেমিকার পকেট খরচ জোগাতে হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধমূলক পথে পা বাড়ান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ফজলে হাসান অনিক। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে লিংক পাঠিয়ে আইডি হ্যাক করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। বেশ কয়েকজন নারী ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে।
নাটোরের বড়াইগ্রামের ছেলে অনিক, যিনি এসএসসি ও এইচএসসিতে উভয় পরীক্ষাতেই অর্জন করেছিলেন এ প্লাস। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করতে ভর্তি হন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। প্রেমিকার পকেট খরচের জন্য অনিক বেছে নেন হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধমূলক পথ।
তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন লিংক পাঠিয়ে আইডি হ্যাক করে, ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যে অনিক প্রায় ৫০টি ফেসবুক আইডি হ্যাক করেন এবং অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগী নারীকে হয়রানি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। তার প্রধান টার্গেট ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা।
এ ধরনের অপরাধের দায়ে কিছু ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের হাতে ধরা পড়েন অনিক।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হ্যাকার অনিক ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ বা বিকাশে টাকা না নিয়ে, বিভিন্ন শপিং করতেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতেন।
এ সময় সিআইডি থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করার আহ্বান জানানো হয়।
সাইবার নিরাপত্তার এ ধরনের ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের চুপ না থেকে আদালতে পিটিশন দায়ের করে মামলা করার নির্দেশও দিয়েছে সিআইডি।