সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পোলট্রি খামারে মুরগি কিনতে যাওয়ার পথে এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতের এই ঘটনায় কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর তার মরদেহ পিকআপ ভ্যানের চালকের পাশে বসানো হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবকের কাছে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল।
তাকে হত্যার পর পিকআপ ভ্যান চালক ‘ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন’ বলে গল্প তৈরি করেছেন। নিহত যুবকের নাম জাকিরুল হোসেন (২০)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। গাজীপুর নগরের জয়দেবপুর বাজারে তার ভগ্নিপতির মুরগির আড়তে কাজ করতেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিকআপ ভ্যান চালক হৃদয় মিয়াকে (৩২) পুলিশ আটক করেছে। হৃদয় মিয়া কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার মাধখোলা গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। ঘটনায় জড়িত আরো দুই সহযোগীকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, জাকিরুলকে তার ভগ্নিপতি মাসুদ মুরগি কেনার জন্য নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন।
ওই টাকা নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির পিকআপ ভ্যানযোগে জয়দেবপুর বাজার থেকে কাপাসিয়া উপজেলার চালাবাজারে রওনা হন। জাকিরুলের ফুফাত ভাই আজিজুল হক জানান, রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জাকিরুল পোলট্রি খামারে না পৌঁছালে মাসুদের সন্দেহ হয়। পরে পিকআপ ভ্যান চালক হৃদয়কে ফোন দিলে ‘পাঁচ মিনিটে পৌঁছে যাবেন’ বলে জানান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর জাকিরুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পিকআপ ভ্যান থামিয়ে চালক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে আশপাশের মানুষকে জানান। ওই সময় চালকের পাশে জাকিরুলের মরদেহ বসা অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ছিনতাইয়ের গল্প শুনে সন্দেহ হলে চালক হৃদয় মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে নগদ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
কামাল আরো জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুইজন জড়িত রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। তাদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ছিনতাইয়ের গল্প সাজিয়ে মুরগির ওই আড়তদার মাসুদের ৬০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে হৃদয় মিয়া।
4o mini