বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে? সাইলেন্সার থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে? সতর্ক হোন এখনই
অনলাইন ডেস্ক
যারা ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল কাজে নিয়মিত গাড়ি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য একটা গাড়ির পারফরম্যান্স ঠিক রাখা যেন প্রতিদিনের রুটিনেরই অংশ। তবে অনেকেই আছেন, যাদের চোখের সামনে দিয়েই গাড়ির অবস্থা খারাপ হতে থাকে—কিন্তু তবুও সেটা বুঝতে পারেন না। আর এই অবচেতন অবহেলাই একসময় গাড়িকে নিয়ে যেতে পারে বিশাল মেরামতের খরচের দিকে। চলুন জেনে নিই—গাড়ি আপনার সঙ্গে ‘কি বলতে চাইছে’, তার ৬টি স্পষ্ট লক্ষণ।
গাড়ি যত পুরনো হয়, তত তার মাইলেজে হালকা পার্থক্য আসতেই পারে। কিন্তু হঠাৎ করেই যদি গাড়ি প্রতি লিটারে ৪–৫ কিলোমিটার কম যেতে থাকে, তবে বুঝতে হবে ইঞ্জিনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম, স্পার্ক প্লাগ বা এয়ার ফিল্টার—সবগুলোই চেক করিয়ে নিন।
আপনার গাড়ির এক্সহস্ট পাইপ বা সাইলেন্সার থেকে যদি হঠাৎ ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে, তবে এটি ইঞ্জিনের তেলের পুড়ে যাওয়া বা কুলিং সিস্টেমে লিকের ইঙ্গিত হতে পারে। কালো ধোঁয়া মানে অতিরিক্ত ফুয়েল বার্নিং, সাদা ধোঁয়া মানে কুল্যান্ট লিক।
গাড়ির ইঞ্জিন যদি স্টার্ট নিতে দেরি করে বা একাধিকবার কিক মারতে হয়, তবে ব্যাটারি, স্টার্টার মোটর বা ফুয়েল সাপ্লাই সিস্টেমে সমস্যা হচ্ছে। শীতকালে এ সমস্যা বেশি হলেও সারাবছরই নজরে রাখা উচিত।
ইঞ্জিন স্টার্ট দেয়ার পর যদি আপনি ‘টিক টিক’, ‘ঘষাঘষি’ বা ‘হুইসেল’ জাতীয় শব্দ শুনতে পান—তবে বুঝবেন ইঞ্জিন, ব্রেক প্যাড অথবা বেল্টে সমস্যা আছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এগুলো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
গাড়ি চালাতে গিয়ে স্টিয়ারিং হঠাৎ ভারী মনে হলে সেটা পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড লিক, টায়ার প্রেশার কমে যাওয়া অথবা সাসপেনশনের গড়বড় থেকে হতে পারে।
ব্রেকিং সময় যদি গাড়ির স্টিয়ারিং কাঁপে বা কড়কড় শব্দ হয়, তবে সেটা ডিস্ক ব্রেকে সমস্যা অথবা ব্রেক প্যাড ক্ষয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। অবহেলা করলে ব্রেক ফেল হয়ে যেতে পারে—যা জীবনঘাতীও হতে পারে।
গাড়ি কেবল একখণ্ড যান্ত্রিক বস্তু নয়, বরং এটি একজন ড্রাইভারের প্রতিদিনের সঙ্গী। তাই এটি ‘কি বলতে চাইছে’ তা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। সময় মতো সমস্যার ইঙ্গিত ধরে ফেলতে পারলেই আপনি গাড়ির আয়ু বাড়াতে পারবেন এবং আপনার পকেটও রক্ষা পাবে অপ্রত্যাশিত খরচ থেকে।