সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
সাইবার যুদ্ধ এখন শুধু সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবেই চলছে ভয়ঙ্কর লড়াই
অনলাইন ডেস্ক
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে ডিজিটাল দুনিয়ায়ও। যুদ্ধের ময়দান সীমাবদ্ধ নেই আর শুধু বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক অভিযানেই। এবার ইন্টারনেটের পর্দার আড়ালেও চলছে পাল্টা-পাল্টি হানা, যার লক্ষ্য—দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার, জ্বালানি খাত, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংকিং সিস্টেম।
বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চালানো ইরান-সমর্থিত সাইবার আক্রমণ। ১৩ জুন থেকে ইসরায়েলে সাইবার হামলার পরিমাণ বেড়েছে ৭০০ শতাংশ! ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা র্যাডওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ডিডিওএস, ম্যালওয়্যার ও ডেটা চুরির মতো বহু আক্রমণ চালাচ্ছে ইরানপন্থী হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো। তাদের মধ্যে আলোচিত নাম—হান্ডালা। এই গ্রুপ এক মোবাইল অপারেটর হ্যাক করে জনগণের ফোনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠায়, আতঙ্ক ছড়ায় সর্বত্র।
১৬ জুন হান্ডালা হ্যাকার গ্রুপ ডেলেক ও ওয়াইজিনিউ ইদানসহ একাধিক বড় কোম্পানির ২ টেরাবাইটের বেশি তথ্য চুরি করেছে। এমনকি ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের ছদ্মবেশেও বার্তা ছড়িয়ে দেয় তারা, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলও চুপ নেই। ইরানে পাল্টা হামলায় প্রেডেটরি স্প্যারো নামের হ্যাকার গ্রুপ নোবিটেক্স নামের একটি বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলারের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চুরি করেছে। পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক সেপাহর সার্ভারে হানা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলেছে বলে দাবি করেছে দলটি। ব্যাংকটির ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ে। তাদের আরও অভিযোগ, এই ব্যাংক ইরানের সামরিক কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলও বাদ যায়নি। সেখানে হ্যাকাররা সরকারবিরোধী ভিডিও সম্প্রচার করেছে, জনগণকে বিদ্রোহে উসকে দেওয়ার চেষ্টাও চালায়। যদিও এ ঘটনার দায় এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
ইরান সরকারও পাল্টা প্রতিরোধে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। রাতের বেলা ইরানের ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। ক্লাউডফ্লেয়ার ও নেটব্লকস জানায়, এটি সরকারি সিদ্ধান্তে করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নাগরিকদের সতর্ক করছে সরকার। যদিও মেটা বলছে, এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
এই ডিজিটাল লড়াই এখন শুধু দুটি দেশের মধ্যকার নয়, এটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিল এক সংকেত।