সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের অসংখ্য তথ্য সংগ্রহ, শেয়ার এবং প্রক্রিয়াজাত করছে, তবে এসব তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থায় এসব তথ্যের ব্যবহার সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ খুবই সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে মেটার ফেসবুক, বাইটড্যান্সের টিকটক, অ্যামাজনের টুইচসহ আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করে। ফলাফলে দেখা যায়, তথ্য সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রচেষ্টা এখনও অপর্যাপ্ত, যা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীদের তথ্য মুছে ফেলার সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব গুরুতর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করছে।
এই গবেষণায় ইউটিউব, এক্স (পূর্বে টুইটার), স্ন্যাপচ্যাট, ডিসকর্ড এবং রেডিটের নামও উঠে এসেছে, যদিও তাদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিশ্লেষণ এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এফটিসির এই গবেষণার ফলাফল ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে নতুন করে ভাবার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের তথ্য ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এফটিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ও তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতায় ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করছে, যা মূলত পারসোনালাইজড বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। মেটা, টিকটকসহ একাধিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর অজান্তেই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ করেছে এফটিসি।
এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মতামত দিয়েছে ডিসকর্ড, যেখানে তারা জানিয়েছে যে তাদের বিজনেস মডেল অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ভিন্ন। ডিসকর্ডের দাবি, এফটিসির বিশ্লেষণে বিজ্ঞাপননির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে তাদের তুলনা করা যৌক্তিক নয়, কারণ গবেষণার সময় ডিসকর্ড বিজ্ঞাপন দেখাত না। মেটা বা টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিজেদের তুলনা না করাই সঠিক বলে মনে করে তারা।
এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২০ সালের পর টুইটার থেকে এক্সে রূপান্তরের ফলে তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা অনেক বদলেছে। এক্সের বর্তমান তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা ব্যবহারকারীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, এবং তথ্যের শেয়ারিং ও ব্যবহারের ব্যাপারে তাদেরকে আগাম সতর্ক করা হয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের তথ্য ব্যবহারে সীমাবদ্ধতাও আরোপ করতে পারেন।
অন্যদিকে, এফটিসির প্রতিবেদনের সমালোচনায় মেটা বা টিকটকের মতো অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি, যা তাদের অবস্থানকে আরও বিতর্কিত করেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস