শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের আহতদের জন্য আজীবন চিকিৎসা ও আর্থিক ভাতা দেওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম।
আজ রবিবার, সচিবালয়ে অভ্যুত্থানে হতাহতদের সহায়তা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়, এবং এতে আহত ও নিহতদের জন্য সরকারের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
“গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা সীমাহীন। বর্তমান সরকার তাঁদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। তাঁদের যথাযথ সম্মান ও ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” বলেন উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম।
সরকার ইতোমধ্যে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে এবং আহতদের ব্যাপারে ক্যাটাগরি অনুযায়ী তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। “এই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবো,” তিনি আশ্বাস দেন।
তবে, হতাহতদের সহায়তা এখানেই থেমে থাকছে না। সরকার অত্যন্ত কার্যকরভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠনের কাজ করছে, যা অচিরেই বাস্তবায়িত হবে। এই অধিদপ্তরের অধীনে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে, যার আওতায় অভ্যুত্থানে হতাহতদের যাবতীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
“আমরা চাই তাঁদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হোক,” বলেন উপদেষ্টা। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই তাঁদের স্মরণ ও তাঁদের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা যেন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে থাকে।”
সরকারি সহায়তার পরিমাণও বিশাল। চলতি অর্থবছরে নিহতদের পরিবারকে এককালীন ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান করা হবে, এবং আহতদের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই খাতে সরকারের বরাদ্দ ২৩২ কোটি টাকা, যা সরাসরি হতাহতদের পরিবার ও চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
“শুধু এককালীন সহায়তা নয়, আমরা আহতদের সারা জীবনের জন্য চিকিৎসা ও ভাতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে,” বলেন উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম।
এই বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টতই বোঝায় যে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু স্মরণীয় নয়, বরং তাতে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশও সুস্পষ্ট।