শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
সাত বছরের বিরতির পর আবার লন্ডনে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁকে বিদায় জানাতে পথে পথে জড়ো হন বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী। তাঁরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে বিভিন্ন স্লোগানে নেত্রীকে বিদায় জানান।
খালেদা জিয়া রাত সোয়া আটটার দিকে গুলশানের বাসা থেকে ক্রিম রঙের একটি গাড়িতে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান (সিঁথি)। গুলশানের ফিরোজা বাসায় তাঁকে বিদায় জানান ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতিমা, প্রয়াত ভাই সাইদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বাসা থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, ‘ম্যাডাম দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।’ বাসা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে খালেদা জিয়ার সময় লাগে আড়াই ঘণ্টার বেশি। উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানবন্দরের টারমাকে আগে থেকেই রাখা হয়েছিল এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি।
বিমানবন্দরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল থেকেই হাজারো নেতা-কর্মী বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যাতে সবাই সুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিদায় জানান। কিন্তু নেতা-কর্মীদের অনেকে রাস্তায় নেমে এলে যানজট সৃষ্টি হয়।
বিএনপি জানায়, খালেদা জিয়া প্রথমে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, এবং আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন খালেদা জিয়া। দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।
লন্ডনে বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনি জায়মা জারনাজ রহমান খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাবেন। দলীয় সূত্র জানায়, এই সাক্ষাতে মা-ছেলে দেশের রাজনীতি এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।
২০১৭ সালের ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া সর্বশেষ লন্ডনে যান। এর পর থেকে বিদেশ সফরের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি দেশেই ছিলেন। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খালেদা জিয়ার রক্তনালীতে সফল অস্ত্রোপচার করেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন এখন অত্যন্ত জরুরি। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। চিকিৎসা শেষে তিনি লন্ডন হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই যাত্রায় বিএনপির চেয়ারপারসনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে নেতা-কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন। ভবিষ্যতে তিনি চিকিৎসা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রত্যাশা করছে বিএনপি।