শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
তারেক রহমানের মন্তব্য: নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থানে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, যা প্রয়োজন হলে ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন তারেক রহমান।
নতুন দলের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র এবং রাজনীতির প্রয়োজনে বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক চর্চাকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। বহু দলীয় মতামত এবং বহুমতের চর্চায় বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে যে দলকে সমর্থন দেবে কিংবা প্রত্যাখ্যান করবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত রায়। তবে যারা জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পায়, তারাই নানা ধরণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে।”
গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা ধৈর্য হারাবেন না। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন। নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালন করবে—এই বিশ্বাস রাখুন।”
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। বরং সতর্ক থাকুন এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন না, যা আপনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার সুযোগ দেয়। জনগণের আস্থা অর্জন করে চলতে হবে।”
তিনি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের উল্লেখ করে বলেন, “জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর মাফিয়াপ্রধানের দেশত্যাগের ঘটনা আমাদের সামনে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব আদর্শ এবং কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করবে। এটি একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।”
কিছু মহলের সংস্কার বনাম নির্বাচন বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “এটি একধরনের অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক। বিএনপির মতে, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য সংস্কার এবং নির্বাচন দুটোই জরুরি। বিদ্যমান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে সংস্কার অপরিহার্য। একইভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে নির্বাচন একটি কার্যকর পন্থা।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত হয়। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা কোনো সংস্কারই টেকসই হয় না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থাকলে জনগণ তার প্রতিবাদ করবে। ইতোমধ্যে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠেছে—পলাতক স্বৈরাচারের সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলের মামলাগুলোর জট কাটাতে কেন এখনো মানুষকে কষ্ট পেতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জনগণ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের চব্বিশের অভ্যুত্থানের চেতনা বিনষ্ট করতে দেবে না।”
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি চায় অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক, কারণ গণতন্ত্রের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই বিএনপি জনগণের স্বার্থে সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।”
আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির, নাজিমউদ্দিন আলম, শহীদউদ্দীন চৌধুরী, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া এবং হাবীবুর রশীদ।