শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, দেশে দখলদারত্ব এবং চাঁদাবাজির অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেছে, তবে দখলদার এবং চাঁদাবাজরা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি মসজিদের খুতবায় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আপনাদের কথা বলা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, কিছু লোক দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার কথা বলে মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বিষয়ে ইমাম ও আলেম সমাজকে হকের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমানে বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি চক্রান্তের চেষ্টা চলছে, যার বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ সাম্প্রদায়িক উসকানির মাধ্যমে সংঘাত সৃষ্টি করতে চায়, কিন্তু বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং আমরাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব। যারা ধর্মীয় উসকানি দিয়ে সংঘাত তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের দায়িত্ব হচ্ছে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলা। মসজিদে মসজিদে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং হকের পক্ষে কথা বলুন, বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলুন। দেশে চাঁদাবাজি এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু চাঁদাবাজদের পরিবর্তন হয়েছে। দখলদারিত্বের অবসান ঘটেনি, শুধু দখলদারদের পরিবর্তন হয়েছে।
মুফতি আবদুল আহাদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দিন, ইসলামি ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার তোফাজ্জল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উপদেষ্টা নাজমুল হাসান নাহিদ, সমন্বয়ক মুহতাদির যারিফ সিক্ত এবং মো. সিয়াম আহাম্মেদ।
পরে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অনিয়ম, সড়ক, সেতু ও গণমাধ্যম নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য জরুরি করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।