বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ডিজিটাল বিপ্লবের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ সংযোগ স্থাপন এবং সমবায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মিশরের রাজধানী কায়রোতে আয়োজিত ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গভীরতর এবং কার্যকর সংযোগ স্থাপন। বিশেষত, ফলিত বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব দূর করে তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতাকে এমনভাবে কাজে লাগানো, যা ডি-৮ দেশগুলোর নেতাদের আন্তর্জাতিক শিল্প ও ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য উপযোগী করে তুলবে।
তিনি বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় ডি-৮ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোর সংস্কার করতে, তবে আমাদের তা করতে হবে। ব্যবসাকে কেবল অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে না দেখে, তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আমাদের নতুন সভ্যতা নির্মাণে সামাজিক ব্যবসাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।’
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ডি-৮ সদস্য দেশগুলোতে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় লক্ষাধিক মানুষকে মৌলিক শিক্ষা ও দক্ষতা প্রদান করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১.২ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। উদাহরণস্বরূপ, আমরা দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে মানদণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। তবে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে, কীভাবে লক্ষ লক্ষ তরুণকে কর্মক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলা যায়। শুধু কঠোর দক্ষতাই নয়, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ এবং নীতি-নৈতিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ মানুষকে পুনঃদক্ষতার সুযোগ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।
অধ্যাপক ইউনূস জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সরঞ্জাম এবং অ্যাপ্লিকেশন এখন সহজলভ্য হয়ে গেছে। তিনি ডি-৮ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, একটি সমবায়ী শিক্ষা এজেন্ডা বিবেচনা করার জন্য, যা তাদের জাতীয় পরিকল্পনার সম্পূরক হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ডি-৮ দেশগুলোর উচিত নতুন ধরণের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা, যা তাদের যুবসমাজকে দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির নেতা হওয়ার উপযোগী করে তুলবে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের দেশগুলোর গৌরবময় ঐতিহ্য, প্রজ্ঞা এবং সাফল্যের সমন্বয়ে কিছু নতুন তৈরি করা সম্ভব। যদিও বহু বছর ধরে ডিজিটাল বিপ্লব চলছে, আমরা এখনো এর সম্পূর্ণ সুবিধা নিতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সহজলভ্য। আসুন আমরা এই প্রযুক্তিগত বাধাগুলো অতিক্রম করে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কাজ করি। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আমি আমাদের জন্য দুটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রস্তাব করতে চাই।’