1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
বাজারে ফিরল স্বস্তির হাওয়া - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজ থেকে শুরু নির্বাচনী প্রচার, দলগুলোর কোথায় কখন কর্মসূচি জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: জয় ও পলকের বিচার শুরু হাইকোর্টে খারিজ রিট, কুমিল্লা–৪ আসনে প্রার্থী হতে পারলেন না হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী আপিল শুনানির প্রথম ঘণ্টায় পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ তেজতুরী বাজারে মোসাব্বির হত্যা: রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেপ্তার নির্বাচনে কোনো দলের জন্য বাড়তি সুযোগ নেই: প্রেস সচিব ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬ প্রার্থিতা বাতিল ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় ইসির নতুন পরিপত্র জারি আগামী বাজেট থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

বাজারে ফিরল স্বস্তির হাওয়া

  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১১৬ বার পঠিত
বাজার

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে বাজারে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এবারে অসময়ের বন্যায় দেশের প্রায় ২৬টি জেলায় আমন ধান ও শাকসবজির বড় ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই কৃষকরা তাদের ক্ষতি পূরণের জন্য আগাম জাতের সবজি চাষ শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এখন সবজি ক্ষেতের পরিচর্যায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজশাহী, বগুড়াসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের হাটবাজারে ইতোমধ্যে শীতের আগাম সবজি আসতে শুরু করেছে। দেশের অন্যান্য জেলাতেও আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আগাম জাতের শীতের সবজি বাজারে চলে আসবে। তখন সবজির সরবরাহ বাড়লে দামও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসবে বলে আশা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গতকাল দেখা গেছে, ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ডিমের দাম ছিল প্রতি ডজন ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। শাহজাহানপুরের একজন বাসিন্দা বলেন, ১৫০ টাকায় ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম কিনেছি, যা গত সপ্তাহে ১৮০ টাকায় কিনতে হয়েছিল। সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করলে হবে না, নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি-না সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। শান্তিনগর বাজারের ডিম বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, গত মাসে দেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন জেলার মুরগির খামারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। একইসাথে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় মানুষ স্বস্তি ফিরে পাওয়ায় ডিম, মুরগির মতো পণ্যের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে ডিমের দামও কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন খামারগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া এবং আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়ছে। এর ফলে দামও কমছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কমতে পারে। ডিমের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার আমদানি সুবিধা দিয়েছে। ডিম আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সরকারের গঠিত টাস্কফোর্স বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এবং দর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ঢাকার প্রধান দুটি পাইকারি বাজার—তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে প্রতিদিন ২০ লাখ ডিম সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। কাপ্তান বাজারে শুক্রবার থেকে ডিম সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের হিসেবে প্রতিদিন দেশে ডিমের চাহিদা ৪ কোটি এবং উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি। তবুও ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে অনেকেই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ বাজার সিন্ডিকেটকেও দায়ী বলে মনে করছেন। সরকার বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

এদিকে সবজির বাজারেও গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে। বরবটি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। আলুর দাম গত দুই মাস ধরে স্থিতিশীল আছে। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লাউ, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, কচুর লতি, কচুরমুখি, পেঁপে, শসা—প্রতিটি সবজির দামই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ এখনও কম। বন্যা-বৃষ্টির কারণে গত কয়েক মাসে সবজির ক্ষতি হয়েছে। অসময়ে বৃষ্টি ও বন্যা না হলে আগাম জাতের সবজি বাজারে আরও আগে আসত। কিন্তু তবুও কৃষকরা আগাম জাতের সবজি চাষ করে চলেছেন। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এসব সবজি বাজারে আসবে এবং দাম আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে কম দামে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে। ট্রাকে ছয়টি পণ্য ৫২০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ডিম, আলু, পেঁপে, পেঁয়াজ, পটল, শসা এই ছয়টি পণ্য ঢাকায় ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় বিক্রি শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ট্রাকের পেছনে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ কম দামে পণ্য সংগ্রহ করছেন। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এই প্রথমবারের মতো ওএমএসের মাধ্যমে কৃষিপণ্য বিক্রি করছে।

গত ১৫ অক্টোবর সচিবালয় এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এদিন রাজধানীর ২০টি স্থানে ট্রাকে করে কৃষিপণ্য বিক্রি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাকের সংখ্যা আরও চারটি বাড়ানো হয়েছে। সরকারি হিসেবে, গত চার দিনে ২০ হাজারের বেশি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছেন। ভোক্তারা বলছেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালু রাখা এবং এর পরিধি আরও বাড়ানো উচিত। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহ পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম চালানো হবে। সফল হলে এর পরিধি বাড়ানো হবে।

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ এখন অতটা চিন্তিত নন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, জনগণ তার প্রকৃত সুফল পেতে অপেক্ষায় আছেন। এই প্রসঙ্গে গত জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া একজনের মা তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেছেন, ‘আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, ডিম-সবজির জন্য না! সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্কারে যতদিন লাগবে ততদিন নুন-ভাত খাবো।’

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..