শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং ২০ হাজার টাকার মুচলেকার ভিত্তিতে জামিন পেয়েছেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এম এ মান্নান।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এ আদেশ প্রদান করেন। তবে, শুনানির সময়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন না।
এম এ মান্নানের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে দায়ের করা একটি মামলায় এম এ মান্নান গত ২১ দিন ধরে কারাবন্দী ছিলেন। তিনি বয়স্ক, চলাফেরায় অক্ষম, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, এবং হুইলচেয়ারে চলাচল করতে বাধ্য। মানসিক দিক থেকেও তিনি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এসব কারণে আদালত তার অসুস্থতা এবং বয়স বিবেচনা করে ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করছি, অন্যান্য আসামিদের ক্ষেত্রেও আমরা সুবিচার পাব। আজকের জামিন আদেশে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।
এর আগে সকাল ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানির সময়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এজলাসে প্রবেশ করার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান। পরে, দুপুর আড়াইটায় পুনরায় শুনানির সময় নির্ধারণ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, বিচারক এজলাসে প্রবেশের পর দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। আমরা বলেছি, মামলাটি এই আদালতে অস্বাভাবিকভাবে আনা হয়েছে, যা নিয়ে আমরা অবগত নই। এই বিষয়ে শুনানির জন্য আরও সময় চাই। তবে, আদালত আমাদের অনুরোধ শোনেননি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়, যা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের (পিপি ও এপিপি) ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেরেনুর আলী বলেন, পিপি ও এপিপিদের রাষ্ট্রপক্ষে থাকার কথা থাকলেও তারা আসামিপক্ষের সাথেই ছিলেন। নিম্ন আদালতে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি, এবং আজও জানিয়েছি। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের বিচারকার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী মল্লিক মইনউদ্দিন সোহেল বলেন, কোনো আইনজীবীর সাবমিশন ছাড়াই মামলার অ্যাডমিশন হওয়া অস্বাভাবিক। এতে আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা মনে করি, এই ধরনের অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিনের শুনানি সুষ্ঠুভাবে হতে পারে না, এ বিষয়ে আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার মামলাটি আদালতে গৃহীত হয়েছে। আজকে তার শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসার জন্য সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুরে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান শিশির রঞ্জন চক্রবর্তীকে সভাপতি করে ৬ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।