সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
টানা কয়েক দিন থেমে থেমে চলা বৃষ্টির পর তাপমাত্রা বেশ আরামদায়ক হয়ে উঠেছিল। দিনে ছিল হালকা গরম আর রাতের শেষভাগে অনুভূত হচ্ছিল শীতের ছোঁয়া। এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের এমনই ছিল আবহাওয়া। তবে আজ মঙ্গলবারের সকালটা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটু আলাদা ছিল। শরতের শেষে এসে ঘন কুয়াশার সাদা চাদরে ঢেকে গেছে পুরো জেলা। বার্তা দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার দিনব্যাপী রোদের তীব্রতা কিছুটা বেশি ছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে এবং রাতভর ঝরতে থাকে হালকা কুয়াশা। আজ ভোরবেলায় সেই কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং তা সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, আজ সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। বিগত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
আজ সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারপাশ ঘন কুয়াশায় আবৃত। কেউ কেউ কুয়াশার মধ্যে সকালে হাঁটতে বের হয়েছেন। অনেক শ্রমজীবী কাজে যাচ্ছেন, আবার শিক্ষার্থীরা স্কুল বা প্রাইভেট পড়তে বের হয়েছেন। গাছের পাতায়, ধানক্ষেতের ওপর আর ঘাসে জমেছে শিশিরবিন্দু। ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় কিছু যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সদর উপজেলার শিংপাড়া এলাকায় হাঁটতে বের হওয়া ৪২ বছরের ওষুধ ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হই। তবে আজকের সকালটা সত্যিই ভিন্ন। কুয়াশার সাদা চাদর দেখে মনে হচ্ছে, শীতের আগমনী বার্তা শুনতে পাচ্ছি। অথচ রাতের অর্ধেকটা পর্যন্ত ফ্যান চালাতে হয়েছে।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, আজ সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। এখন মৌসুমি বায়ু বিদায় নিচ্ছে, এ কারণেই হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা দেখা দিচ্ছে। এটাকে শীতের আগমনের পূর্বাভাস বলা যেতে পারে। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ আকাশে মেঘের ঘনত্বও বেশি। বর্তমানে তেঁতুলিয়ার আকাশে মেঘে ঢাকা ৭৫ শতাংশ। এখন থেকে তেঁতুলিয়ায় দিনে দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে।