সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। পবিত্রতা ছাড়া নামাজসহ বহু ইবাদত শুদ্ধভাবে আদায় করা যায় না।
ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া বা সহবাসের সময় অসাবধানতার কারণে অনেক সময় বিছানার চাদর, কম্বল কিংবা তোশকে নাপাকি লেগে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কম্বল-তোশক নাপাক হলে কীভাবে তা পবিত্র করা যাবে—এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে।
এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের অভিমত হলো—বীর্য নাপাক। বীর্য যদি শুকনো অবস্থায় থাকে, তবে তা খুঁটে তুলে ফেলা যথেষ্ট। আর যদি ভেজা থাকে, তাহলে ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি। এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
হজরত আমর ইবন মাইমুন (রহ.) বীর্য লেগে যাওয়া কাপড় সম্পর্কে সুলাইমান ইবন ইয়াসার (রা.)-কে প্রশ্ন করলে তিনি হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে বীর্য ধুয়ে দিতাম। এরপর তিনি সেই কাপড়েই নামাজের জন্য বের হতেন, যদিও কাপড়ে ধোয়ার পানির দাগ থাকত।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৯, ২৩১)
আরেক হাদিসে হজরত আম্মার ইবন ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
পাঁচটি কারণে কাপড় ধৌত করা আবশ্যক: এক. পায়খানা, দুই. প্রস্রাব, তিন. বমি, চার. রক্ত, পাঁচ. বীর্য।
(সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ৪৫৮)
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন—
বীর্য ভেজা থাকলে ধুয়ে ফেলবে, আর শুকিয়ে গেলে খুঁটে তুলে ফেলবে।
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস: ৯৩৩)
বীর্য শুকিয়ে গেলে বিছানা না ধুয়েও সেখানে ঘুমানো বৈধ। এতে শরীর বা কাপড় নাপাক হয় না। তবে পরিষ্কার ও পবিত্র বিছানায় ঘুমানো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ।
যদি কম্বল বা তোশকের কোনো একটি অংশে নাপাকি লাগে, তবে তার পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা জায়েজ। ভারী তোশক বা জাজিমের এক পাশে নাপাকি লাগলে—অপর পাশে যদি নাপাকির রং, ভেজাভাব বা দুর্গন্ধ না থাকে, তাহলে সেই পরিষ্কার অংশে নামাজ পড়া বৈধ।
যেসব জাজিম বা তোশক ধোয়া সম্ভব নয়, সেগুলোতে নাপাকি শুকিয়ে যাওয়ার পর তার ওপর জায়নামাজ বা পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে ব্যবহার করা যাবে এবং নামাজ আদায় করা যাবে।
(হালবাতুল মুজাল্লি: ১/৫৭১; আস-সিআয়া: ২/৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ২/৩০)