সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দান আবারও হতে চলেছে এক বিশাল ইসলামী আয়োজনের সাক্ষী। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিরতির পর এই ঐতিহাসিক স্থানে শুরু হতে যাচ্ছে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই মাহফিল নগরজুড়ে সাড়া ফেলেছে। দেশের প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী প্রতিদিন তাফসির করবেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অদম্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার। তাছাড়া জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা সাইয়েদ কামাল উদ্দিন জাফরীসহ আরও অনেক বিশিষ্ট বক্তারা উপস্থিত থাকবেন। মাহফিলটি চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
মাহফিল সফল করতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্যারেড ময়দানে মূল প্যান্ডেলে পুরুষদের জন্য বসার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী মহসিন কলেজ, কাজেম আলী স্কুল, কাপাসগোলা কলেজ এবং কিশলয় কমিউনিটি সেন্টারে। এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে মূল আয়োজনের সম্প্রচার হবে, যাতে মাঠে উপস্থিত না থাকলেও পাশের এলাকায় বসে মাহফিল উপভোগ করা যায়।
মাহফিলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে, যাতে এমন একটি বৃহৎ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। অতিথি ও সাংবাদিকদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন।
এই মাহফিলের ঘোষণার পর থেকেই চট্টগ্রামজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিরাট সাড়া পড়ে গেছে। ২০০৬ সালে সর্বশেষ এই প্যারেড ময়দানে তাফসির মাহফিল হয়েছিল, যেখানে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাফসির করেছিলেন। এত বছর পর পুনরায় এই ঐতিহাসিক স্থানে মাহফিল আয়োজন হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে নস্টালজিয়া এবং নতুন উদ্দীপনার মিশেল দেখা যাচ্ছে।
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, শুধু মাঠেই নয়, পুরো চট্টগ্রাম নগরে যেন কোরআনের বাণী পৌঁছে যায়, তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্দরকিল্লা, জামালখান, মেডিকেল কলেজ এবং চকবাজার এলাকায় বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় মাহফিল নয়, বরং এটি চট্টগ্রামের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কোরআনের তাফসির শুনতে হাজারো মানুষ প্যারেড ময়দানমুখী হবে, যেখানে একসাথে উদ্ভাসিত হবে আলোর বাণী।