বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
মধ্যরাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে আর মানুষ গভীর ঘুমে নিমগ্ন, তখন পূণ্যবান মানুষ জেগে ওঠে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত হতে। এই সময় তাঁরা আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন। সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাজ পড়া যায়, তবে সুবহে সাদিকের পর তা আর পড়া বৈধ নয়। যদি মধ্যরাতে জেগে ওঠার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা উচিত। যদিও রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করলে তা আরও বেশি ফজিলতপূর্ণ হয়।
তাহাজ্জুদের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ নিজে তাঁর বান্দাদের দিকে আহ্বান জানান, তাদের ক্ষমাপ্রার্থনা ও প্রার্থনার জন্য।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ পৃথিবীর কাছাকাছি আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছে যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে তার চাওয়া পূরণ করব? আর কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?’ (বুখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ নিজে যখন বান্দাদের কাছে প্রার্থনা, চাওয়া ও ক্ষমার জন্য আহ্বান করেন, তখন বান্দার প্রার্থনা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে। তাহাজ্জুদ নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। দিনের অন্যান্য নামাজ প্রকাশ্যে আদায় করা হয়, যা সদকার মতো। আর তাহাজ্জুদের নামাজ গোপন ইবাদতের মতো, যা বান্দার আত্মার উন্নয়ন ঘটায়।
তাহাজ্জুদের অভ্যাস বান্দাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে দূরে রাখে এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত পালন করার সুযোগ প্রদান করে। রাতের নির্জন মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে সিজদা করার মাধ্যমে আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং বান্দা তার প্রভুর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভ করে।