মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
দেশের অনেক অঞ্চলে রাতের বেলা, অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর থেকে পরদিন সূর্যোদয় পর্যন্ত স্বপ্নের বিষয় আলোচনা করা, স্বপ্ন বর্ণনা করা বা তার ব্যাখ্যা চাওয়া অশুভ এবং ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়।
তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধারণা সঠিক নয়। প্রথম, মধ্য ও শেষ রাতে, সুবহে সাদিকের পর অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে কোনো সময়ই স্বপ্নের কথা বলা যায়, স্বপ্ন বর্ণনা করা যায় এবং তার ব্যাখ্যা চাওয়া যায়। এসব সময়ে স্বপ্নের কথা বলার ফলে কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

হাদিসে উল্লেখিত আছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের পর সাহাবাদের স্বপ্ন শুনতেন এবং তাদের তাবির বা ব্যাখ্যা দিতেন। সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ফজরের সালাতের পর আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং প্রশ্ন করতেন, “তোমাদের মধ্যে কি কেউ আজ রাতে কোনো স্বপ্ন দেখেছে?” যারা স্বপ্ন দেখত তারা তা বর্ণনা করত এবং তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার ব্যাখ্যা দিতেন। (সুনানে তিরমিজি: ৭০৪৮)
মানুষ সাধারণত তিন ধরনের স্বপ্ন দেখে। কিছু স্বপ্ন মানুষের কল্পনা ও চিন্তা থেকে আসে, যা ঘুমের মধ্যে এসে যায় এবং মানুষ এগুলো খুব শিগগিরই ভুলে যায়। এগুলোর মধ্যে কোনো বিশেষ ইশারা বা অর্থ থাকে না। কিছু স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, যা সুসংবাদ বা ভবিষ্যতের কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দেয়। আবার কিছু স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, যা দেখে মানুষ ভয় পায় বা আতংকিত হয়।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, “যখন কেয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন মুসলমানদের স্বপ্ন প্রায়শই মিথ্যা হবে না। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সত্য কথা বলা ব্যক্তি সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন দেখবে। মুসলমানের স্বপ্ন নবুয়তের পঁইত্রিশ ভাগের এক ভাগ।” স্বপ্ন তিন ধরনের হয়: ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে আসে, কিছু স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে যা ভয় বা দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে, এবং কিছু স্বপ্ন মানুষের নিজের চিন্তা থেকে উদ্ভূত হয়। (সহিহ মুসলিম: ৫৭০৮)
খারাপ স্বপ্ন দেখলে করণীয় সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, “ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আসে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। যদি কেউ ভালো স্বপ্ন দেখে, তাকে শুধু সেই ব্যক্তির কাছে বলবে, যে তাকে ভালোবাসে। কিন্তু যদি কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে, সে শয়তানের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বলবে) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। তারপর অন্য কাউকে স্বপ্নের কথা বলবে না, কারণ ওই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” (সহিহ বুখারি: ৬৯৯৫)