শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
জীবন রক্ষা ও সুস্থতার জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে একজনের রক্ত অন্যের শরীরে স্থানান্তর করা ইসলামি শরিয়তে অনুমোদিত।
নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন সহ মাহরাম এবং গায়রে মাহরাম আত্মীয়-স্বজনদের রক্ত দান করা যায়। একইভাবে, অপরিচিত বা অনাত্মীয়দেরও রক্ত দান করা বৈধ। রক্তদানকারী ও রক্তগ্রহণকারীর মধ্যে রক্তের সম্পর্ক তৈরি হয় না। তাই অনাত্মীয় বা গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষকে রক্ত দান করলে তাদের মধ্যে বিয়ের নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। যদি রক্তের গ্রুপ মিলে, তবে স্বামী বা স্ত্রীকেও রক্ত দান করা জায়েজ, এবং একে অপরের রক্ত গ্রহণে বৈবাহিক সম্পর্কেও কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দেওয়া কোনো পরামর্শ বা নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে, স্ত্রী যদি স্বামীর রক্ত গ্রহণ করেন, তবে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা বা গর্ভের সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করে থাকেন।
এছাড়া, অসুস্থ মানুষকে নিজের রক্ত দান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রক্ত দেওয়ার সময় অবশ্যই তা বিনামূল্যে এবং সওয়াবের নিয়তে দিতে হবে। রক্ত বিক্রি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। কোনোভাবেই রক্ত দেওয়ার বিনিময়ে টাকা বা কিছু গ্রহণ করা জায়েজ নয়। তবে, যদি অসুস্থ ব্যক্তি বা তার আত্মীয়রা বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহে অক্ষম হন, তখন রক্ত ক্রয় করা জায়েজ। কিন্তু, রক্তদাতা যদি নিজের সম্মতিতে কোনো হাদিয়া গ্রহণ করেন, তা গ্রহণ করা যাবে।
রক্তদান বা অন্য কোনোভাবে মানুষের সাহায্য করা আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ, যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সাহায্য লাভের পথ উন্মুক্ত করে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে বিচার দিবসে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি কোনো দুঃস্থের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি মুসলিমের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে লুকিয়ে রাখবেন। যতদিন পর্যন্ত বান্দা তার ভাইয়ের সহায়তায় চেষ্টা করবে, আল্লাহ ততদিন তার সাহায্য করবেন। (সহিহ মুসলিম)