রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
প্রত্যেক পরিবারের মধ্যে মধু একটি সাধারণ উপাদান। কাশি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় – মধু অনেকের কাছে অমূল্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধুর উপকারিতা নিয়ে প্রচারও তুঙ্গে, ফলে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
মধুর কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। তবে অনেকেই বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা প্রচারিত হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত, এবং এ কারণে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।
অনেকে মনে করেন, কৌটোজাত মধুর তুলনায় মৌচাক থেকে সংগ্রহ করা মধুর গুণ অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সঠিক নয়, কারণ গবেষণায় এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং, এই ভুল ধারণা থেকে বের হওয়া উচিত। সব ধরনের মধুরই কিছু না কিছু গুণ রয়েছে।
অনেকে বিশ্বাস করেন, মধু মৌসুমি অ্যালার্জি নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে। তারা মনে করেন, এই অ্যালার্জি জনিত জ্বরও মধু দিয়ে সারানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানান, মৌসুমি অ্যালার্জি নিরাময়ে মধুর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, এটি শুধুই একটি ভুল ধারণা।
অনেকে ভাবেন, চিনি খাওয়ার বদলে মধু খাওয়াই ভালো। তাদের ধারণা, মধু যদি কোনো খাবারে দেওয়া হয়, তাহলে এটি মিষ্টি করবে, কিন্তু শরীরের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চিনি যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত মধুও শরীরের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং, মধু ও চিনি দু’টিই পরিমাণমতো খাওয়াই উচিত।
দূষণের কারণে শরীরের ক্ষতি হতে পারে, এবং অনেকেই মনে করেন, মধু শরীরের টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে। গরম চায়ে মধু মিশিয়ে খাওয়ার বিষয়টি সাধারণ। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ে মধু মিশিয়ে পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
অনেকে বিশ্বাস করেন, মধু কাটা বা পোড়া জায়গায় অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধু আসলে অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।