রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি টক বরই ভর্তা কিংবা বরইয়ের সঙ্গে শুধু লবণ-মরিচের গুঁড়া—এগুলো তো এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য। বরইয়ের কথা শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। ছোট-বড় টক-মিষ্টি বরই ছাড়াও বর্তমানে নারকেলি কুল, নতুন ধরনের উচ্চ ফলনশীল বাণিজ্যিক জাত যেমন বাউকুল, আপেল কুল বাজারে পাওয়া যায়, এমনকি ফেরিওয়ালার ঝুড়িতেও।
বরই শুকিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আমাদের উপমহাদেশে আচার, চাটনি তৈরি করা হয়। এতে নানা মসলা ও গুড় যোগ করা হয়। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও রাশিয়া, দক্ষিণ ইউরোপ, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যে বরইয়ের বিভিন্ন জাত জন্মায়।
এই ফলটির মধ্যে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এতে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ অনেক বেশি, ১০০ গ্রাম বরই খেলে ভিটামিন সি-এর দৈনিক চাহিদার ৭৭ শতাংশ পূর্ণ হয়। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ ও বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক ও ফসফরাস রয়েছে। এসব উপাদান আমাদের দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। বরইয়ের ৮০ শতাংশ জলীয় অংশ হওয়ায় এতে খুব কম ক্যালরি থাকে, ফলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য টক বরই খুবই উপকারী। এটি ডায়রিয়া, রক্তশূন্যতা, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বরই ভিটামিন, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করতে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
বরই হাড়ের সমস্যা, হজম ক্ষমতা, কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করে। এছাড়া ভালো ঘুমের জন্যও উপকারী। চীনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, কুল অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। বরইয়ের বীজসহ পুরো ফলটাই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইটোকেমিক্যাল, পলিস্যাকারাইড, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং স্যাপোনিনে সমৃদ্ধ। এসব উপাদান স্নায়ু শান্ত করে, শরীর ও মন শিথিল করে এবং ঘুমের উন্নতি ঘটায়।
বরই স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে এবং উদ্বেগ দূর করতে কার্যকরী। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বরই সহায়ক, বিশেষ করে আলঝেইমার এবং ডিমেনশিয়া রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। বরইয়ের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণের কারণে চীনে বরইয়ের চা পান করা হয়, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ‘পাইলরি’ নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য দায়ী। বরইয়ের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী। তাই সুস্থ জীবনযাপন করতে আমাদের খাদ্যতালিকায় বরইজাতীয় ফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের সময় বরইয়ের বিপরীতপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা ওষুধের শোষণ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বরই নিজেই একটি অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হওয়ায়, দিনে যথেষ্ট পরিমাণ বরই খেলে অবসাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ডোজ কমানো যেতে পারে, বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।