সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয় শীতকালীন শাকের মধ্যে পালং শাকের অবস্থান বিশেষ। এটি পুষ্টিতে ভরপুর ও দামের দিক থেকেও সাশ্রয়ী। রক্তস্বল্পতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পালং শাক বিশেষ উপকারী খাদ্য।
পালং শাককে অনেকেই রক্ত পরিষ্কার করার জন্য উপযোগী বলে থাকেন। এতে উচ্চমাত্রায় আয়রন রয়েছে, যা শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই শীতকালীন শাকে ফাইবারের পাশাপাশি প্রচুর আয়রন থাকায় এটি পুষ্টিকর হিসেবে বিবেচিত।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন মাত্র এক কাপ পালং শাক খেলে শরীরের দৈনিক ফাইবার চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করা যায়। পাশাপাশি এটি ভিটামিন ‘এ’ ও ‘কে’-এর চমৎকার উৎস। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘ই’, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিড ও সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুস্থ থাকার জন্য এই উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পালং শাকের ক্যালরি পরিমাণ খুবই কম। তাই ইচ্ছেমতো খাওয়া গেলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। জানেন কি? পালং শাকে বিদ্যমান ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি শুধু রক্তের শ্বেত কণিকার মাত্রা সঠিক রাখে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, পালং শাক ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়াও পালং শাকে থাকা উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন চোখের জন্য দারুণ উপকারী। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ছানি পড়া প্রতিরোধে কার্যকর। শীতের শুষ্ক পরিবেশে ত্বকের যত্ন নিতে পালং শাকের উপকারিতা অদ্বিতীয়। এটি ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে এবং ত্বককে শুষ্কতার ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এছাড়া হাত-পায়ের গিঁটের ব্যথা উপশমে পালং শাক উপকারী।
পালং শাক দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মুখের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। রান্না করা পালং শাকের পাশাপাশি এর পাতা পেস্ট করেও ব্যবহার করা যায়। পুড়ে যাওয়া অংশ, ক্ষত, ব্রণ বা কালশিরার মতো সমস্যায় পালং শাকের পেস্ট বা রস লাগালে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।