শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ডায়াবেটিসকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও কিছু দেশ এই বৃদ্ধির হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর পর, ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আইডিএফের ২০২১ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশেরই ‘ডায়াবেটিস টাইপ-২’। এই ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে আসা বিলম্বিত করা যায়। বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন না থাকলেও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের সহজ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নিয়মিত মেনে চললে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকেরা রোগীদের একটি বিশেষ মডেল অনুসরণ করতে পরামর্শ দেন, যেটি হলো ‘থ্রি ডি’ – ডায়েট, ডিসিপ্লিন এবং ড্রাগ। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ তিনটি উপাদানের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা বা ডিসিপ্লিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন ডায়াবেটিস রোগী যদি নিয়ম মেনে জীবনযাপন করেন তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। একইসঙ্গে, যারা এখনো এই রোগে আক্রান্ত হননি, তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনধারা বুঝে চিকিৎসকেরা তাদের খাদ্যতালিকা ঠিক করে দেন। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা ভিন্ন হতে পারে। এর পাশাপাশি শরীরচর্চার গুরুত্বও উঠে আসে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ থাকতে, নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে রক্তের শর্করা সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিসজনিত অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হচ্ছে একটি সুচিন্তিত এবং কার্যকরী রুটিন তৈরি করা। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো খাওয়া রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় অবশ্যই সুষম উপাদান রাখতে হবে। আমিষ, স্নেহজাতীয় খাবার, শাকসবজি, দুধ এবং ডিম খাওয়া জরুরি। তবে দুধের ক্ষেত্রে পাতলা ও ‘লো-জিআই’ যুক্ত দুধ নির্বাচন করা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা দুধজাতীয় পণ্য এখন বাজারে সহজলভ্য।
এরপর আসে শরীরচর্চার গুরুত্ব। প্রতিদিনের রুটিনে শরীরচর্চার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা উচিত। যদি ভারী ধরনের শরীরচর্চা করা সম্ভব না হয়, তবে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটাটা অত্যন্ত উপকারী। যেসব ডায়াবেটিস রোগী চাকরিজীবী, তাদের আরও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একটানা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা উচিত নয়। কাজের ফাঁকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করতে হবে। হঠাৎ করে যেকোনো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরের খাবার, বিশেষ করে কোমল পানীয় এবং ফাস্ট ফুড খাওয়া কমাতে হবে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ এবং জীবাণুমুক্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস সুস্থতার ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে।’
ডা. মো. সাইফুল্লাহ আরও যোগ করেন, ‘প্রতিদিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শরীরচর্চার জন্য রাখা উচিত। হাঁটাটা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। নিয়মিত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।’