সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
কথায় আছে, যে ব্যক্তি বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে, সে-ই প্রকৃত বুদ্ধিমান।
আমরা মস্তিষ্কের কেবল একাংশই ব্যবহার করি। এমনকি আইনস্টাইনও তাঁর মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করেননি, এমন একটি মিথ প্রচলিত আছে। বুদ্ধি বাড়ানোর মানে হলো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তাহলে চলুন, মস্তিষ্ককে আরও কার্যকর করতে কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক।
১. মাইন্ড ডায়েট
‘যা খাই, তাই হই’ — এই প্রবাদটি শুনে থাকবেন নিশ্চয়? মস্তিষ্কের জন্যও এটি সত্যি। তাই এমন কিছু কাজ করুন, যাতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। উদাহরণস্বরূপ: বই পড়া, গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা, পডকাস্ট শোনা, পাজল মেলানো ইত্যাদি। দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম।
২. কৌতূহলী মন
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কেন? শিশুদের মতো কৌতূহলী মন বজায় রাখুন। প্রতিদিন কিছু নতুন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। প্রশ্ন তুলুন, অনুসন্ধান করুন। অনুসন্ধিৎসু মন ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়।
৩. ‘পাওয়ার অব সাইলেন্স’
অনেক সময় আপনি একাধিক চিন্তা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন কিছু সময় নীরবতা অবলম্বন করুন। প্রতিদিন ৫ মিনিট সময় বের করুন কিছু না করার জন্য। এই ছোট বিরতির পর মস্তিষ্ক নতুনভাবে চিন্তা করতে চায় এবং সমস্যা সমাধান সহজ হয়ে যায়।
৪. উল্টোভাবে চিন্তা করুন
যেমন সাধারণত ভাবেন, তেমন ভাবনা নয়, উল্টোভাবে ভাবুন। যেমন: উল্টোভাবে গুণ করা, উল্টোভাবে হাঁটা, আগে সমাধান ভাবা, বা উত্তর দেখে প্রশ্ন তৈরি করা। গণিতের সমস্যাও উল্টোভাবে সমাধান করার চেষ্টা করুন। একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাগুলোর সমাধান ভাবুন।

৫. ‘কমফোর্ট’ চ্যালেঞ্জ করুন
নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করুন, নতুন নতুন রাস্তায় হাঁটুন। মস্তিষ্ককে চমকে দিন। নিজেকে নিয়মিত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করান। এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে তাজা রাখে এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে।
৬. কিছু নতুন শিখুন
প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে চেষ্টা করুন। খবরের কাগজ পড়ুন, পডকাস্ট শুনুন, একটি নতুন ভাষা শিখুন, কোডিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার চেষ্টা করুন। নতুন দক্ষতা অর্জন মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে।
৭. ঘুমানোর আগে
রাতে শুতে যাওয়ার আগে চোখ বন্ধ করে দিনের ঘটনা, আপনি কী শিখলেন, নতুন কার সাথে পরিচিত হলেন, তার নাম কী — এসব স্মরণ করার চেষ্টা করুন। এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৮. একেবারে ভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলুন
অন্তত একবার এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, যাদের আপনি জানেন না। পেশা, বয়স, সামাজিক অবস্থান, জাতি বা দেশ ভিন্ন যেকোনো মানুষের সঙ্গে আলাপ করা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি আপনাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
৯. শারীরিক ব্যায়াম
শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো সক্রিয় করে এবং রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে শক্তিশালী করে। ব্যায়াম নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টরের জন্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
১০. সঠিক খাবার
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাছে এবং তিসির তেলে এই উপাদান পাওয়া যায়। এছাড়া, গ্লুকোজ মস্তিষ্কের শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই শর্করা খাওয়া প্রয়োজন। কলা, গ্রিন টি, কফি, কলিজা, সামুদ্রিক খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
সূত্র: কি ফর সাকসেস এবং হেলথলাইন