মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
👶 সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই হবে না, এই ৫টি ভুল তাকে দুর্বল করে দিতে পারে
অনলাইন ডেস্ক
শিশুকে শুধু ভালোবাসলেই হয় না, তার মানসিক ও আবেগিক বিকাশের জন্য দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা। অথচ অভিভাবকদের অনেক প্রচলিত ‘ভালো’ অভ্যাসই—আসলে হয়ে উঠছে সন্তানের বেড়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা!
এই লেখায় জানুন এমন ৫টি প্রচলিত ভুল, যা অনেকে জানেনই না যে সন্তানকে বড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত করছেন। মত দিয়েছেন ডা. টুম্পা ইন্দ্রানী ঘোষ, যিনি যুক্তরাজ্যের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল ফেলো ও শিশু-কিশোর মনোরোগবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক।
অভিভাবকেরা অনেক সময় নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে সন্তানের জন্য ব্যস্ত থাকেন। মনে রাখুন, নিজের যত্ন না নিলে আপনি সন্তানের জন্যও যথাযথভাবে থাকতে পারবেন না। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, বিশ্রাম ও সময়কে গুরুত্ব দিন। আপনি সুস্থ থাকলেই সন্তানও ভালোভাবে বেড়ে উঠবে।
অনেকে মনে করেন, সন্তানের সামনে কিছু না জানার কথা স্বীকার করা অভিভাবক হিসেবে দুর্বলতা। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, সত্য স্বীকার করার মাধ্যমে আপনি শিশুর মধ্যে সততা ও কৌতূহল তৈরি করতে পারেন। বলুন, “আমি জানি না, কিন্তু আমরা একসাথে জানবো।” এতে তার শেখার আগ্রহ বাড়বে।
শুধু প্রশংসা নয়, শিশুকে তার ভুলগুলোও শেখানো জরুরি। প্রতিটি কাজে প্রশংসা করা, এমনকি ভুল কাজেও বাহবা দেওয়া তার মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক আচরণ শেখানো, যেমন খাবার টেবিলের শিষ্টাচার, নিজের জিনিস গোছানো—এসব শেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুকে সব সময় সুখে রাখতে চাওয়া ভালো, কিন্তু জীবনের কঠিন সত্য থেকে একেবারে আলাদা করে রাখা সঠিক নয়। কিছু চাওয়া অপূর্ণ থাকলেও তার ক্ষতি নেই। বরং তাকে শেখান—কীভাবে সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। এতে সে ভবিষ্যতের ধাক্কাগুলোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হবে।
বাড়িতে শাসনের নামে গলা চড়ানো, রেগে যাওয়া বা মারধর অনেকেই এখনো স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু এই আচরণ শিশুর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভুল ধরিয়ে দিন ভালোভাবে, যুক্তি দিয়ে। এতে সে আপনাকে ভয় নয়, সম্মান করতে শিখবে।
এক সময় যৌথ পরিবারে অনেকের নজরে শিশুর বড় হওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু এখনকার সময় ভিন্ন। বাড়ির বাইরের পরিবেশ নিরাপদ নয় বলে অনেক বাবা-মা সন্তানকে সেখান থেকে আলাদা রাখেন। তাই বাবা-মায়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা মানসিক বন্ধন এখন শিশুর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার দেয়াল।
এই বন্ধন যদি শাসন, ভুল বোঝাবুঝি বা একতরফা আচরণে ভেঙে যায়—তাহলে সে একা হয়ে পড়ে নিজের ঘরের মধ্যেই।
সন্তানপালন কোনো বই পড়ে শেখা যায় না, কিন্তু সচেতন অভ্যাস তৈরি করেই হতে পারে একজন দায়িত্ববান অভিভাবক।
এই পাঁচটি ভুল শুধরে নিলেই আপনি তৈরি করতে পারেন একটা নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী এবং মানসিকভাবে দৃঢ় প্রজন্ম।
👶 ভালোবাসা হোক সজীব, কিন্তু বুদ্ধিমত্তা হোক সেই ভালোবাসার চালক।