সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
হার্টের করোনারি ধমনীতে ব্লক বা বাধা সৃষ্টি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করা। ব্যথাটি বুকের মাঝখানে এমনভাবে অনুভূত হয় যেন কেউ বুক চেপে ধরেছে বা ভারী কোনো বস্তু চাপিয়ে দিয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের এই ব্যথা বিশ্রামেও কমে না এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি ঘাম হওয়া, বমি বা বমিভাবও দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণ বেশিরভাগ মানুষ জানেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বুকে ব্যথা ছাড়াও কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? এর উত্তর হলো, হ্যাঁ। একে বলা হয় নীরব বা সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক। বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, মোট হার্ট অ্যাটাকের ১২ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই ঘটে।
বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাঁদের শারীরিক অনেক লক্ষণ উপেক্ষিত হয়, এবং তাঁরা অনেক সময় সঠিকভাবে ব্যথার বিবরণ দিতে পারেন না।
ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্নায়ুজনিত জটিলতার কারণে ব্যথার অনুভূতি কমে যেতে পারে, ফলে তাঁদের নীরব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণায় জানা গেছে, নারীদের মধ্যে নীরব হার্ট অ্যাটাকের হার তুলনামূলক বেশি।
নিয়মিত ব্যথানাশক বা স্টেরয়েড ব্যবহার করলে হার্ট অ্যাটাকের বুকে ব্যথার অনুভূতি চাপা পড়ে যেতে পারে।
সাধারণত হার্ট অ্যাটাকে যেমন বুকব্যথা হয়, নীরব হার্ট অ্যাটাকে সেটি না থাকলেও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যথা হতে পারে হাত, চোয়াল, পিঠ বা কাঁধের ওপর দিকে।
গ্যাস্ট্রিক সমস্যার মতো উপসর্গ, যেমন: পেটের উপরের অংশে ব্যথা, বমিভাব, বদহজম বা বমিও হতে পারে।
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, রক্তচাপ হ্রাস, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা বা হালকা লাগার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
নীরব হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ইসিজি ও রক্তের ট্রপোনিন পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা যায়। হার্টের ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা করে হার্ট অ্যাটাক ও তার ফলে সৃষ্ট জটিলতা নির্ণয় করা সম্ভব।
অনেক সময় নীরব হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা নেন না। দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছালে জটিলতা বেড়ে যায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এ ধরনের জটিলতার মধ্যে হার্ট দুর্বল হওয়া, আকারে বড় হওয়া, এবং পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বুকের যেকোনো ধরনের অস্বস্তিকে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। বিশেষত যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা পারিবারিকভাবে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস আছে, তাঁদের জন্য বুকে অস্বস্তি, চাপ অনুভব, বমিভাব, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার লক্ষণ অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, সহকারী অধ্যাপক, হৃদ্রোগ বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা