সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
সারাদিন কাজের পর শরীর যখন অবসন্ন, চোখ জ্বালা করছে, তবুও রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুম আসছে না—এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। দিনের শেষে শারীরিক ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও ঘুম না আসা বেশ হতাশাজনক হতে পারে। কখনো মনে হয় অতিরিক্ত কাজের ফল, আবার কখনো কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
রাতে ঘুম না আসার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। এটি সব সময় গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ না হলেও দৈনন্দিন অভ্যাস, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো, বিকেলে কফি পান, কিংবা রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এমনকি কোভিড-১৯ সংক্রমণ বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণেও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আজ আমরা জানব, কেন দিনে ক্লান্ত থাকার পরও রাতে ঘুম আসে না, এর সম্ভাব্য কারণগুলো কী এবং কীভাবে কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ভালো ঘুম নিশ্চিত করা যায়।
দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য ঘুমানো শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে নিলে এটি উপকারী হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময়ের ন্যাপ বা বিকেলের পর ঘুমালে রাতের ঘুম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পরামর্শ: দিনে ২০–৩০ মিনিটের ছোট ন্যাপ নিন এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
অতিরিক্ত চিন্তা বা দুশ্চিন্তা থাকলে মন শান্ত হয় না, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। উদ্বেগজনিত সমস্যার একটি সাধারণ লক্ষণই হলো ঘুমে ব্যাঘাত। এ সময় শরীর সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকে, যা স্বাভাবিক ঘুমকে বাধাগ্রস্ত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপ্রেশনে আক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে অনিদ্রা, শ্বাসজনিত সমস্যা, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা ন্যাকোলেপসির মতো জটিলতা থাকতে পারে। ডিপ্রেশন শরীরের ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বা সারকেডিয়ান রিদমকেও ব্যাহত করে।
কফির প্রভাব শরীরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ঘুমানোর চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে কফি পান করলে ঘুমের মান নষ্ট হতে পারে। যারা রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে চান, তাদের জন্য বিকেল ৪টার পর কফি এড়িয়ে চলাই ভালো।
মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা ঘুম আসতে দেরি করায়। বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করার বা ব্লু-লাইট ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। গবেষণায় জানা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৫–১০ শতাংশের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, বিশেষ করে যারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘমেয়াদি কোভিডে এই হার আরও বেড়ে ৪০ শতাংশের বেশি হতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা ডিলে ড স্লিপ ফেজ সিনড্রোম (DSPS) রাতের ঘুম ব্যাহত করতে পারে। এসব সমস্যায় দিনে ক্লান্তি বাড়ে, কিন্তু রাতে ঘুম আসে না।
শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সারকেডিয়ান রিদম আমাদের ঘুম, হরমোন নিঃসরণ ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দিনের আলোতে মেলাটোনিন কম থাকে, আর রাতে তা বাড়তে শুরু করে। সাধারণত মেলাটোনিন বাড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ঘুমের অনুভূতি আসে।
দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও রাতে ঘুম না আসা একটি সাধারণ সমস্যা। এটি ঘুমের অভ্যাস, মানসিক অবস্থা, কফি পান, স্ক্রিন ব্যবহার কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে হতে পারে।
যদি এই সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক কারণ নির্ণয় হলে কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিক ও শান্ত ঘুম ফিরে পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: HealthLine