সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
চুল পড়া কমানো, চুল ঘন করা কিংবা নতুন চুল গজানোর আশায় তেল ব্যবহার আমাদের নিত্যদিনের চুলচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় ভালোভাবে তেল মালিশ করে শুয়ে পড়ার অভ্যাসটি বহু পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
শৈশবকাল থেকেই মা-খালার কাছ থেকে শোনা সেই পরিচিত উপদেশ— ‘রাতে মাথায় তেল মেখে ঘুমাও, চুল ভালো থাকবে’। এই ধারণা আমাদের অনেকের কাছেই প্রায় প্রশ্নাতীত সত্য। তবে আধুনিক জীবনযাপন, বাড়তি দূষণ এবং ত্বক ও চুলের নানা জটিলতার প্রেক্ষাপটে এখন নতুন করে ভাবা হচ্ছে— সারা রাত মাথায় তেল মেখে রাখা কি সত্যিই উপকারী, নাকি এতে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি?
ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং আধুনিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে তেল মাখার বিষয়টি একেবারেই সবার জন্য এক রকম নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক না জানলে উপকারের বদলে উল্টো সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
আয়ুর্বেদে মাথাকে শরীরের ‘উত্তমাঙ্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘মস্তক তৈল’ বা মাথায় তেল প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখা এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগানো। তবে রাতে তেল মেখে ঘুমানো নিয়ে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে।
আয়ুর্বেদ মতে, তেলের প্রকৃতি শীতল। রাতে দীর্ঘ সময় মাথায় তেল থাকলে কফ দোষ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে যাদের সাইনাস, সর্দি বা কফজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে হালকা উষ্ণ ভৃঙ্গরাজ তেল বা তিলের তেল দিয়ে মাথায় মালিশ করলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সারা রাত তেল মেখে রাখা সব ধরনের স্ক্যাল্পের জন্য নিরাপদ নয়।
ব্রণের ঝুঁকি: মাথার তেল কপাল, গাল বা ঘাড়ের ত্বকের সংস্পর্শে এলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ধুলো ও ছত্রাকের সমস্যা: তেলযুক্ত চুলে বালিশের ধুলোবালি সহজে লেগে থাকে। এতে স্ক্যাল্পে ম্যালাসেজিয়া (Malassezia) নামক ছত্রাকের বংশবিস্তার ঘটে, যা খুশকির প্রধান কারণ।
চুলের যত্নে সারা রাত তেল রাখা জরুরি নয়। সঠিক নিয়মে তেল ব্যবহার করলেই যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।
১. ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টাই যথেষ্ট
শ্যাম্পু করার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে তেল মাখলে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। ২ ঘণ্টার বেশি রাখলে অতিরিক্ত লাভ হয় না।
২. হালকা উষ্ণ তেল ব্যবহার করুন
তেল সরাসরি আগুনে গরম না করে গরম পানির ওপর রেখে কুসুম গরম করুন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে।
৩. গোড়ায় মালিশ করুন
নখ নয়, আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে স্ক্যাল্পে মালিশ করাই সবচেয়ে কার্যকর।
যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা সপ্তাহে একদিন রাতে তেল মেখে সকালে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে পারেন। তবে তৈলাক্ত স্ক্যাল্প বা খুশকির সমস্যা থাকলে রাতে তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ চুলের জন্য শুধু তেল নয়— সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস