শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন আমলকী খাওয়া একটি চমৎকার অভ্যাস। তবে আমলকী সবসময় পাওয়া যায় না, কারণ এটি মৌসুমি ফল। তাই আমলকীর মৌসুমে এর পুষ্টিগুণ গ্রহণের সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এক পুষ্টি উপাদান আছে আমলকীতে।
অনেকেই জানেন, আমলকী ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এর তিতকুটে স্বাদ কিছু মানুষের কাছে অপছন্দনীয়, তবু প্রতিদিন আমলকীর মাত্র একটি ফলই আপনার সার্বিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একমাত্র আমলকীর এত গুণ রয়েছে—তাহলে কি এটি সুপারফুডের তালিকায় পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা রাজধানীর আজিমপুরের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শম্পা শারমিন খানের সঙ্গে কথা বলি।
তাঁর কাছ থেকেই আমলকীর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।
একটি আমলকীতে ৪৬৩ থেকে ৪৬৫ মিলিগ্রাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে। এটি মূলত ভিটামিন সি। এছাড়াও এতে অল্প পরিমাণে আঁশ থাকে। এত বিপুল পরিমাণ ভিটামিন সি পেতে হলে আপনাকে অন্তত চারটি কমলা বা দুটি বড় আকারের পেয়ারা খেতে হবে। কিন্তু একজন মানুষের কি প্রতিদিন এত পরিমাণ ভিটামিন সি প্রয়োজন? পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজন মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। আর শিশুদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রামের মধ্যে। তবে এর চেয়ে বেশি গ্রহণ করলেও কোনো সমস্যা নেই, কারণ শরীর এই ভিটামিন জমা রাখে না।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে আপনাকে পর্যাপ্ত আমিষ এবং ভিটামিন সি গ্রহণ করতে হবে। ক্ষত নিরাময়েও ভিটামিন সি অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত এই ভিটামিন গ্রহণ করলে চুল পড়া কমবে, ত্বক ভালো থাকবে এবং খাবারে রুচি বাড়বে।
সুপারফুড হিসেবে বিবেচিত হতে গেলে কোনো খাবারে দেহগঠন, রোগ প্রতিরোধ, দেহের ক্ষয়পূরণ, তাপ উৎপাদন এবং কর্মশক্তি সরবরাহের মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়। যদিও আমলকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অসাধারণ, এর অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো তুলনামূলকভাবে সীমিত। তাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটিকে সুপারফুড বলা যায় না।
সুপারফুড না হলেও আমলকী নিঃসন্দেহে একটি উপকারী ফল। প্রতিদিন অন্তত একটি আমলকী খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী। আমলকী সংরক্ষণের জন্য কিছু ফল ফ্রিজে রাখতে পারেন, তাতে এর পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। তবে আমলকীর আচার তৈরি করলে উত্তাপের কারণে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পুষ্টিগুণ কমে যায়। তাই আচার শুধুমাত্র স্বাদ বৃদ্ধিতে উপকারী হলেও স্বাস্থ্যরক্ষায় নয়।