শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
পিঠাপিঠি ভাইবোনের সম্পর্ক নাকি বেশ মধুর হয়। একসঙ্গে বড় হতে গিয়ে তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। তবে এটি সম্পর্কের এক দিক। অন্যদিকে, কাছাকাছি বয়সের দুই সন্তানকে লালন-পালনের দায়িত্ব পালনে অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক জীবনে একক পরিবারের ব্যস্ততায় দুটি ছোট শিশুকে বড় করা মা-বাবার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সঠিক সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সন্তানের পরবর্তী সন্তান নেওয়ার জন্য ন্যূনতম দুই বছরের ব্যবধান রাখা উচিত। এই সময়টি মায়ের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি শিশুটির শারীরিক ও মানসিক বিকাশের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতকের দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ প্রয়োজন হয়, যা শিশুর পূর্ণ পুষ্টির জন্য অপরিহার্য। এ সময়ের আগে যদি মা গর্ভধারণ করেন, তাহলে প্রথম সন্তানটি মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এজন্যই বিশেষজ্ঞরা অন্তত দুই থেকে পাঁচ বছরের ব্যবধানের পর নতুন সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
স্কয়ার হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. ফারজানা রশীদ বলেন, মায়ের শারীরিক সুস্থতা ও সন্তানদের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি আরও বলেন, মায়ের বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি প্রথম সন্তান নেওয়ার সময় মায়ের বয়স ৩০-এর বেশি হয়, তাহলে তিন বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমতে থাকে এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই বয়সের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, দুই থেকে তিন বছরের ব্যবধান হলে মা-বাবার জন্য দুই সন্তানকে একসঙ্গে লালন-পালন করাটা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকদের ওপর চাপ বেড়ে যায় এবং এ সময়ে শিশুদের দেখভালের ক্ষেত্রে কম যত্ন নেওয়া হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দীন বলেন, শৈশবে মা-বাবার ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি হলে শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য এক সন্তানকে একটু বড় হতে দেওয়া ভালো। আর মায়ের স্বাস্থ্য যদি ঠিক থাকে, তাহলে পাঁচ বছর বা তারও বেশি ব্যবধান হলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই।
তবে নতুন সন্তান গর্ভে আসার পর বড় সন্তানকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি। তাকে তার নতুন ভাই বা বোনের আগমনের ব্যাপারে জানাতে হবে এবং বোঝাতে হবে মা-বাবার ভালোবাসা দুই সন্তানের জন্যই সমান। এতে করে বড় সন্তান নতুন সদস্যকে সহজেই গ্রহণ করতে পারবে এবং ছোট ছোট আত্মত্যাগ করতে শিখবে। সব মিলিয়ে এটি পরিবারে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে।
সূত্র: প্রথম আলো