শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
রাজধানীর মতিঝিলের হলিডে মার্কেটের দাম শুনলে চমকে যাবেন! গজ কাপড় মাত্র ৫০ টাকা, স্নিকার্স ২০০ টাকায়, থ্রি–পিস ৫০০ টাকায়, আর ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় নায়রা কাটের ওয়ান–পিস এবং গাউন। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাবে বিছানার চাদর। এত কম দামে এগুলো অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন—বিশেষত এই ভাসমান বাজারটি বসে কেবল শুক্র আর শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এ কারণেই নামকরণ হয়েছে হলিডে মার্কেট।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে যখন ক্রেতা হয়ে প্রথম গিয়েছিলাম, তখনও করোনার প্রভাব ছিল খানিকটা। তবে এই মার্কেট দেখে বোঝার উপায় ছিল না। দুই দোকানের মাঝে ফাঁকা জায়গায় অনায়াসে হাঁটতে পারছিলাম। কিন্তু এবার প্রতিবেদক হিসেবে গেলাম, আর অবাক হয়ে দেখলাম, সেই ফাঁকা জায়গাগুলোতেও দোকান গড়ে উঠেছে। ক্রেতার ভিড়ের ঢল যেন আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল! নতুন দোকান যোগ হয়েছে কাঁচাবাজার, সুগন্ধি এবং আরও নানা ধরনের পণ্যের। যেন এক ছোটখাটো ‘বাজারের বাজার’ হয়ে উঠেছে।
এখানে সাজগোজের জিনিস, ঘর সাজানোর উপকরণ, ব্যাগ, শাড়ি, নারী-পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, বিছানার চাদর, বাসনপত্র, শুকনা খাবার—সবই মেলে। দামও অন্যান্য বাজারের তুলনায় অনেকটাই কম। এবার দেখে নেওয়া যাক কম দামে কেনাকাটার সেরা কিছু অপশন।
থ্রি–পিস: লোন বা মহেশ্বরী থ্রি–পিস থেকে ভার্সিটি বা অফিসের জন্য উপযুক্ত সালোয়ার–কামিজ পাওয়া যাবে মাত্র ৫০০–৬০০ টাকায়। এছাড়া ওয়ান–পিস ও টু–পিসও পাওয়া যাবে। মেয়েদের আরামদায়ক জিনস মাত্র ১৫০ টাকায়! টপস ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়। সুতির ওড়না ১০০ থেকে ২০০ টাকায় মিলবে।
শাড়ি: এখানে সাধারণ সুতির শাড়ি পাওয়া যায় ১০০–১৫০ টাকায়। জর্জেট, কাতান বা জরি চুমকির শাড়ি মিলবে ২০০–৩০০ টাকায়। এগুলো যদিও সেকেন্ড হ্যান্ড, কিন্তু দেখতে একদম নতুনের মতো। অনেকে এগুলো কাঁথা বানানোর জন্যও কিনে থাকেন।
ব্যাগ: এখানে সেকেন্ড হ্যান্ড আর এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ব্যাগ এত সুন্দর যে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন! আমি নিজে ২০০ টাকায় একটি নকশা করা কাপড়ের ব্যাগ আর ৫০০ টাকায় কৃত্রিম চামড়ার ব্যাগ কিনেছি। এছাড়া ১০০ টাকায় মিনি ব্যাগও পেয়েছি। সঙ্গে স্যান্ডেলেরও নজরকাড়া সংগ্রহ।
বিছানার চাদর: সুতির বিছানার চাদরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ডিজিটাল প্রিন্টের কুশন মাত্র ৫০ টাকায়! হাতের কাজ করা দস্তরখানা আর পর্দাও মিলবে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
চামচ: এখানে চামচের অনন্য সংগ্রহও আছে। ঘুরে ঘুরে কিনলে ইউনিক কিছু চামচ মিলে যাবে। আমি ৩৩০ টাকায় ৬টি কাপ আর চামচের সেট কিনেছি। এভাবে শোকেস সাজানোর মতো জিনিস কিনতে পারবেন কম দামেই।
লেইস: মাত্র ৫০ টাকায় এত লেইস পাবেন যে শাড়ি, থ্রি–পিস, বা পর্দায় লাগানোর পরও বেঁচে যাবে! এখান থেকে ১০ টাকা পিস কাপড়ও পাওয়া যায়, যা টেবিল মোছা বা বাচ্চাদের পোশাক বানানোর কাজে লাগবে।
কেবল ১,৫০০ টাকায় আপনি কিনে ফেলতে পারবেন একটি থ্রি–পিস, একটি শাড়ি, একটি বিছানার চাদর, একটি ব্যাগ, একটি ওড়না আর এক ডজন চামচের সেট। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে এই মার্কেট। প্রথমে শুধু শুক্রবার হলেও এখন শনিবারও বসে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য আদর্শ স্থান। তবে, টয়লেট আর খাবারের ব্যবস্থার সংকট এখনও আছে। সব শ্রেণির মানুষ এখন সামাজিক মাধ্যমে মার্কেটের ভালো রিভিউ দেখে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন।