সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য আমরা প্রতিদিনই সাবান, শ্যাম্পু ও নানা প্রসাধনী ব্যবহার করি। তবুও শরীরের একটি অংশ থেকে যায় অবহেলিত ও নোংরা। সেখানে গিজগিজ করে অসংখ্য জীবাণু বাস করে। বিষয়টি জানলে অনেকেই অবাক হবেন—এই অংশটিই মানুষের শরীরের সবচেয়ে নোংরা এবং দুর্গন্ধযুক্ত জায়গা হিসেবে বিবেচিত।
তাহলে প্রশ্ন আসে, শরীরের কোন অংশটির কথা বলা হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সবচেয়ে নোংরা অংশ হলো নাভি। বিজ্ঞানের ভাষায় নাভি মূলত শরীরের একটি পুরোনো ক্ষতের চিহ্ন। জন্মের সময় মায়ের শরীর থেকে শিশুকে আলাদা করার পর যে দাগটি তৈরি হয়, সেটিই নাভি। অধিকাংশ মানুষের নাভি ভেতরের দিকে ঢোকানো থাকে, আর অল্পসংখ্যক মানুষের নাভি বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে। এই গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই নাভি সহজে ময়লা ও জীবাণু জমার জায়গায় পরিণত হয়।
কিন্তু নাভি আসলে কতটা নোংরা?
২০১২ সালে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নাভিতে থাকতে পারে প্রায় ২ হাজার ৩৬৮ ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া তখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের কাছেও অজানা ছিল।
টরন্টোর ডিএলকে কসমেটিক ডার্মাটোলজি অ্যান্ড লেজার ক্লিনিকের এক ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, নাভি ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার করার জন্য আদর্শ স্থান। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা যারা নাভিতে পিয়ার্সিং করিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের ভাষায়, শরীরের যেসব অংশে চামড়ার ভাঁজ থাকে, ঘাম জমে ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত জন্মায়। নাভি ঠিক তেমনই একটি জায়গা।
তাই যদি কখনো নাভিতে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্যথা কিংবা দুর্গন্ধ অনুভূত হয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস