বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি কোটা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা ও খেলোয়াড় কোটা বাতিলের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার ই-মেইলের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান।
ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষারের পাশাপাশি নোটিশদাতারা হলেন ব্যারিস্টার মাহদী জামান বনি, অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট শাহেদ সিদ্দিকী।
আজ ই-মেইলে এই নোটিশ পাঠানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন), প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ও রেজিস্ট্রারকে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে (ক) মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, (খ) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং (গ) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ বহাল রেখে বাকি সব কোটা বাতিল করতে হবে। নোটিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে সুপ্রিম কোর্টে রিটসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল স্মরণীয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া অবশ্যই মেধার ভিত্তিতে হতে হবে। অন্য কোনো মানদণ্ডে এ প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক, স্বেচ্ছাচারী এবং অযৌক্তিক, যা কোনো বৈধ রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সর্বোচ্চ আদালত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে মাত্র ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এ রায় প্রয়োগ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি কোটায় ভর্তি সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থি।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নারী বা শিশুদের উন্নতির জন্য বিশেষ বিধান রাখা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সন্তানরা এ মানদণ্ড পূরণ করে না। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখা বৈষম্যমূলক, স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক এবং বৈধ রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। খেলোয়াড় কোটায় অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের কোটা সংবিধানে সংজ্ঞায়িত পশ্চাৎপদ বিভাগে পড়ে না। তাই ক্রীড়াবিদদের জন্য কোটা সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থি। এছাড়াও খেলোয়াড় কোটায় স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার গণমাধ্যমে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি কোটা রাখা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের বিরোধী। এছাড়া পোষ্য কোটা সংরক্ষণ সংবিধানবিরোধী এবং খেলোয়াড় কোটা স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। এসব কোটা বাতিলের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ব্যবস্থা না নিলে হাইকোর্টে রিটসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কার নিয়ে। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ শতাংশ কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিন মাসের মধ্যেই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি কোটা বহাল রেখে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাবি প্রশাসন, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিপরীত হিসেবে বিবেচিত। গতকাল ৪ নভেম্বর থেকে ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদন শুরু হয়েছে।