বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
ভারত পাকিস্তানের তিনটি কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে
অনলাইন ডেস্ক
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত এখন রূপ নিয়েছে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সরাসরি সামরিক মুখোমুখিতে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা দাবি করেছে, ভারত তাদের তিনটি কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটি দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত।
সবচেয়ে আলোচিত টার্গেট ছিল রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি, যা ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। হামলার কিছুক্ষণ আগেই সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর এই ঘাঁটি থেকে রওনা হন, যা ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ইসলামাবাদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় রাতভর, যা সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারে জানান, “ভারতের ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।” যদিও সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখানো হচ্ছে, কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ভারত এই হামলা চালিয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নির্ভুলভাবে নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে।
ভারতের এই সামরিক অভিযানের নামকরণ করা হয়েছে “অপারেশন সিন্দুর”, যার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি এবং কৌশলগত বিমানঘাঁটি অকার্যকর করে তোলা। এর জবাবে পাকিস্তানও তৎপর হয়ে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, যার কোডনেম “অপারেশন বানিয়ান মারসুস”। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ভারতের পাঠানকোট ও উধমপুরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে ছিল।
এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তরের পাঞ্জাব থেকে পশ্চিম ভারতের রাজস্থান পর্যন্ত একাধিক এলাকায় সন্দেহভাজন ড্রোনের তৎপরতা দেখা গেছে। ফিরোজপুরে এক হামলায় বেশ কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ৩২টি বিমানবন্দর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পুরো দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। এই ঘটনায় দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, আর এতে করে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সামরিক উত্তেজনার এই ভয়াবহ বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “দিল্লির এই উন্মত্ত আচরণ দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে বড় ধরনের সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।”
এই মুহূর্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত যেন নতুন এক যুদ্ধাবস্থার আগাম সংকেত দিচ্ছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, তাহলে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যবস্থার জন্য ভয়ঙ্কর হুমকিতে পরিণত হতে পারে।