1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছেন যে ইরানি - Janatar Jagoron

ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছেন যে ইরানি

  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫
  • ১৮০ বার পঠিত
ইরান

ক্ষমতার খেলায় ফিরছেন শাহপুত্র, অস্থির ইরানে চমক!
অনলাইন ডেস্ক

নতুন সংঘাত ও উত্তেজনায় ইরানের রাজনীতির আঙিনায় আবারও আলোচনায় শাহবংশের ক্ষমতাচ্যুত উত্তরসূরি প্রিন্স রেজা পাহলাভি। দেশটির বর্তমান অস্থিরতা ও সংঘাতকে ঘিরে তিনি সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পক্ষে না থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বান অরাজকতা ও অস্থিরতাকে হাতিয়ার করে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার এক সুপরিকল্পিত কৌশল।

১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো রেজা পাহলাভি দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে একজন ‘সংস্কারপন্থী’ নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

সম্প্রতি তিনি ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন, একপ্রকার পূর্বতন শাহ আমলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তার মতে, ইসলামিক রিপাবলিকই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মূল উৎস।

প্রিন্স পাহলাভির বক্তব্যে খুশি পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েল। তারা তার প্রচেষ্টাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে। কারণ রেজা বিশ্বাস করেন, ইসলামিক সরকারের পতনই কেবল এই অঞ্চলকে শান্তি এনে দিতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের দৃষ্টিতে, এটি এক ধরনের রাজনৈতিক জুয়া— যেখানে ইরানের ভবিষ্যৎকে বিদেশি হস্তক্ষেপে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

রেজা পাহলাভির বক্তব্যে বেশ স্পষ্টভাবেই ভেসে উঠেছে আমেরিকান ও ইসরায়েলি ভাষ্য। তিনি সরাসরি বলেন, “এই সংঘাত ইরান ও জনগণের নয়, বরং খামেনি ও তার ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই।”

এই মতাদর্শগত মিলেই তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবের ‘পছন্দের মুখ’ বানিয়েছে। তিনি ধর্মঘট ও রাজপথে বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরির পথে হাঁটছেন— যা এক ধরনের নরম অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেয়।

প্রবাসী ইরানিদের একাংশ মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই একমাত্র মুক্তির পথ। কিন্তু অপরপক্ষ পাহলভিদের অতীত স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি ভুলতে পারেনি। তাদের আশঙ্কা, রেজা পাহলাভির প্রত্যাবর্তন মানেই আবারও রাজতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্রের উত্থান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক একাধিক শক্তি চায় ইরান দুর্বল হোক। কারণ একটি দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অনেক সহজ। ইরানের অস্থিতিশীলতা হলে, মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তার ও “নিরাপত্তার অজুহাতে” বাহ্যিক হস্তক্ষেপ সহজ হয়ে ওঠে।

রেজা পাহলাভি নিজে অবশ্য বলছেন, তিনি চান সেনাবাহিনী ও ধর্মীয় নেতাদের হাত থেকে ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরুক, তবে সেটা যেন অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মাধ্যমে হয়— বিদেশি হস্তক্ষেপ দিয়ে নয়।

তবে, অনেকেই বলছেন— রেজা পাহলাভির কথায় যতই ‘জনগণের স্বাধীনতা’র বুলি থাকুক না কেন, তার আসল লক্ষ্য ক্ষমতার পুনর্দখল। আর তাকে সমর্থন মানেই ইরানের ভবিষ্যৎকে বিদেশি আগ্রাসন ও অরাজকতার মুখে ঠেলে দেওয়া।

শুক্রবার ইরানে ইসরায়েল যেসব হামলা চালিয়েছে, তা শুধুমাত্র পারমাণবিক প্রকল্প নয়, বরং একরকম ‘সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার’। নেতানিয়াহুর দৃষ্টিতে, যদি সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামে, তাহলে সরকারের পতন ঘটানো সহজ হবে। ইরানের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগাতে চাইছে তেল আবিব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবে, কিংবা দেশ আরও ভয়াবহ অরাজকতায় পড়বে কিনা— তা অনিশ্চিত। রেজা পাহলাভির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সহজ হবে না। অন্যদিকে ইরান চায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, কারণ আরেকটি বড় যুদ্ধ পরিস্থিতি গোটা অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল: অতীতের জোট, বর্তমানের শত্রুতা

যদিও বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের চিরবৈরী, ইতিহাস ছিল ভিন্ন। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিভাজনে আপত্তি জানালেও, ১৯৫০ সালে ইরান মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। পাহলভি আমলে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়— তেল সরবরাহ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক দূতাবাস স্থাপন পর্যন্ত।

কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। খামেনির নেতৃত্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দূতাবাসকে রূপান্তরিত করে ফিলিস্তিন দূতাবাসে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক পরিণত হয় প্রকাশ্য বৈরিতায়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, ফ্রান্স২৪, দ্য জিউস ক্রোনিক্যাল, জেরুজালেম পোস্ট, টাইম, জিউস নিউজ সিন্ডিকেট

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..